Wednesday, November 26, 2008

ডিম আগে না মুরগি আগে?


ডিম এবং বাসা বামপাশের 'Oviraptor' অথবা ডানপাশের 'A relative of Velociraptor' যে কোন এক প্রজাতির হতে পারে।

ডিম আগে না মুরগি আগে এই বিতর্কটা বেশ পুরনো। অনেক আগে থেকে বিজ্ঞানীমহলে এই বিষয়টা একটা রহস্যময় বিষয় হয়েছিল। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে এর একটা সমাধান খুঁজে পাওয়া গেছে। বিরল প্রজাতির এক প্রকার ডাইনোসরের বাসার জীবাস্ম পাওয়া গেছে যা গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা আশার বাণী শুনিয়েছেন। ৭৭ মিলিয়ন বৎসর আগের এই বাসাটিতে পাঁচটি ডিম ছিল। মা ডাইনোসর এই ডিমগুলোতে তা দেয়ার সময় হঠাৎ করে জলের উচ্চতা বেড়ে গিয়েছিল। ফলে চারপাশ প্লাবিত হয়ে যায়। মা ডাইনোসর বাধ্য হয় বাসা ছেড়ে চলে যেতে। ডিমসহ এই সম্পূর্ণ বাসাটা বালির নিচে এতদিন চাপা পড়ে ছিল। লম্বায় এই বাসা প্রায় ১.৫ ফিট (আধা মিটার) এবং ওজনে ১১০ পাউন্ড (৫০ কেজি)। বিজ্ঞানীরা এখন বেশ জোর গলায় বলছেন মুরগী নয় প্রথমে ডিম এসেছে। আলবার্তাতে অবস্থিত ক্যালিগারির বিশ্ববিদ্যালয়ের Paleontologist ডার্টা জেলিনস্কি (Darta Zelenitsky) বলেন এটা এখন পরিষ্কার যে মুরগি নাকি ডিম আগে এসেছে। মুরগী বা পাখিজাতীয় প্রাণীদের আগমনের বহু পূর্বেই ডাইনোসররা ডিম পাড়তে শুরু করেছিল। অতএব মুরগি নয় ডিম আগে এসেছে একথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে।

বালুঢাকা নদীর তীরে অবস্থিত এই বাসার ফসিলটি ১৯৯০ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল। ক্যালিগারির আলবার্তাতে অবস্থিত কানাডা ফসিল একাডেমিতে এতদিন রাখা ছিল। ২০০৭ সালে বাসার ফসিলটি Royal Tyrrell Museum of Paleontology in Albertaতে এনে রাখা হয়।

হাঁসের মতো চঞ্চুযুক্ত এক বিরল ধরণের ডাইনোসর এই ধরণের বাসা বানাতো। জেলিনস্কি প্রথম এই বাসাটিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বুঝতে পারেন যে এটা এক ধরণের ছোট সাইজের মাংশাসী ডাইনোসরের।
ফসিল হয়ে যাওয়া ডিমের ছাপ এবং ভেঙে যাওয়া খোসার টুকরো
উত্তর আমেরিকাতে ডাইনোসরের বাসা খুব কম আবিষ্কৃত হয়েছে। এর আগে যেগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো ছিল Troodon নামক আর এক জাতের ডাইনোসরের। কিন্তু এই বাসাটি যে ঠিক কোন প্রজাতির ডাইনোসরের তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে সেটা যে ছোট আকৃতির ডাইনোসর এবং এই জাত থেকেই যে জুরাসিক যুগের সময়ে পাখির উদ্ভব হয়েছে তা নিশ্চিত।

বাসাটিকে পর্যবেক্ষণ করে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
* বাসাটি একবারে ১২টি ডিম তা দেয়ার মতো করে তৈরি।
* মাঝখানে কিছুটা ঢালু এই বাসাতে ডিমগুলো একমুখি করে সাজানো ছিল।
* ডিমগুলো প্রায় ৫ ইঞ্চি (১২ সে.মি.) লম্বা।
* মা ডাইনোসর বাসার উচ্চ অংশে ডিম পারতো। ডিমগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ে সোজা হতো।
* মা ডাইনোসর একবারে দুইটি ডিম পারতো। একবারে একাধিক ডিম পাড়ার ঘটনা কুমিরদের মধ্যেও দেখা যায়। কোন কোন পাখিও এরকম করে, কিন্তু বেশিরভাগ পাখি একবারে একটা ডিম পাড়ে। কুমিররা এই ডাইনোসরগুলোর অধিকতর নিকটতম প্রজাতি।

সূত্র:
* লাইভ সাইন্স
* ইয়াহু নিউজ
Read More ...

Friday, November 21, 2008

বিশ্ব টয়লেট দিবস

Water Partners থেকে একটা মেইল গত ২০ তারিখে পেয়েছিলাম। (পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সময় পাই নি)। তারা ১৯ নভেম্বর তারিখে বিশ্ব টয়লেট দিবস পালন করেছে। তাদের মনে সংশয় ছিল যে হয়তো অনেকে তাদের এই চিন্তাকে রসিকতা হিসেবে মনে করতে পারে। সে জন্য মেইলের প্রথমে উল্লেখ ছিল: "It is no joke. Today we celebrate World Toilet Day and the incredible value of the can. Call it what you will – the pot, the loo, the throne, the latrine, the water closet, the bog – it’s one of the most important inventions in history."

তাদের যুক্তিগুলো গ্রহণযোগ্য। কেন এরকম একটা দিনের প্রয়োজন দেখা দিল সে সম্পর্কে কিছু বলতে গিয়ে তারা বলেছে:
বিশ্বের বেশিরভাগ রোগের সংক্রমণ ঘটে মানবশরীরের বর্জ্য পদার্থ থেকে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪২ ভাগ অর্থাৎ ২.৫ বিলিয়ন মানুষ এখনও স্যানিটারি সুবিধার আওতায় আসেনি। ১.২ বিলিয়ন মানুষের কোন টয়লেট নেই। মাটিতে মলত্যাগ করার জন্য কোন গর্ত নেই, কোন পিট ল্যাট্রিনও তাদের নেই। প্রত্যেক বৎসর ১.৮ মিলিয়ন শিশু ডায়রিয়াতে মারা যায়, প্রতিদিন মারা যায় ৪.৯০০ শিশু।

এই অবস্থায় আমরা যারা সচেতন বলে নিজেদেরকে মনে করি, তাদের করার আছে অনেক কিছু।
  • বিস্তারিত তথ্য পড়ুন ওয়াটার পার্টনারস এর ওয়েবসাইটে
  • পৃথিবীর বিভিন্ন রকমের ল্যাট্রিনের ছবি রয়েছে এখানে
Read More ...

Monday, November 17, 2008

প্রত্যেকটা গভীর শ্বাসের সাথে সাথে এভারেস্ট শৃঙ্গকে ধন্যবাদ দিন

যে পদ্ধতিতে কোন পাহাড়ের শৃঙ্গগুলো জেগে ওঠে সে পদ্ধতির কারণে শ্বাসভর্তি অক্সিজেন নেয়া সহজ হয়ে যায়। পাহাড়ে শৃঙ্গগুলো মাটি ফুঁড়ে ওপরে ওঠার সময় এমন সব পরিবর্তন ঘটায় যা পরিশেষে অক্সিজেন তৈরিকারী ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীবের পুষ্টি সাধন করে।

পৃথিবীর মহাদেশ তৈরি করতে গিয়ে বিশালাকার মহাদেশীয় প্লেটগুলো এ পর্যন্ত ৭ বার পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেয়েছে। বিপুল শক্তি নিয়ে একে অপরের সাথে ধাক্কা খাওয়ার ফলে মাটি উপরের দিকে উঠে গিয়েছে। সুউচ্চ পাহাড়গুলি তৈরি হয়েছে এভাবে। হিমালয় পর্বতমালার এভারেস্ট শৃঙ্গ তৈরি হয়েছে দুটি প্লেটের সংঘর্ষের ফলে। মহাদেশীয় সংঘর্ষের পরবর্তী কয়েক মিলিয়ন বৎসরব্যাপী বৃষ্টিপাতে উচ্চ শৃঙ্গগুলি ধুয়ে গেছে। পাহাড়ের শরীর বৃষ্টিতে ভিজে কাদা হয়েছে। ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নেমে সাগরে চলে গেছে। ধুয়ে যাওয়া মাটির সঙ্গে সাগরের জল মিশেছে আয়রণ, ফসফরাসসহ নানারকমের খনিজদ্রব্য। এই দ্রব্যগুলোকে সাগরতলের আনুবীক্ষণিক গাছগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। উদ্ভিদগুলোর শরীরে খনিজদ্রব্যগুলো হজম হওয়ার সময় তৈরি হয় প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন। বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধির পেছনে এই ফটোসিনথেসিস এর গুরুত্ব অপরিসীম। ২.৬৫ বিলিয়ন বৎসর আগে বায়ুমণ্ডলে ধর্তব্যের মধ্যে নয় এমন স্বল্প পরিমাণে অক্সিজেন ছিল। কিন্তু বর্তমানকাল পর্যন্ত তা বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ২১ ভাগ। ক্যানবেরাতে অবস্থিত অস্ট্রেলিয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (Australian National University) ভূবিজ্ঞানী আয়ান ক্যাম্পবেল এবং চার্লট অ্যালেন মনে করেন সাগরতলের ঠিক নিচের স্তরে যে পরিমাণ খনিজ দ্রব্য মজুত আছে তার প্রেক্ষিতে বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের পরিমাণ বোঝা যায়। বিভিন্ন মহাদেশীয় সংঘর্ষের সময় সাগরতলের খনিজদ্রব্য ও বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে তারা যথেষ্ঠ প্রমাণ হাতে পান।

তারা বলেন, যেকটি মহাদেশীয় সংযোজনকালীন ঘটনাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা গেছে, প্রত্যেক পুনর্গঠণ প্রক্রিয়ায় যথেষ্ঠ পরিমাণের অক্সিজেন বিমুক্ত হয়েছে। ক্যাম্পবেল আরও বলেন - ৪০ মিলিয়ন বৎসর আগে এশিয়া ভূখণ্ডের সাথে ভারতীয় ভূখণ্ড মিলিত হয়ে হিমালয় পর্বতমালা তৈরি করেছে। পরবর্তী বৎসরগুলোতে বর্তমান কাল পর্যন্ত এর ফলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়ে গেছে ১৫%।

কেউ কেউ মনে করেন, বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন সরবরাহ করার আরও একাধিক ভৌগলিক উপাদান আছে। এদের মধ্যে প্রধানতম হল আগ্নেয়গিরি। বলা হয় যে, ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনকে পৌঁছে দেয় আগ্নেয়গিরি। কিন্তু ক্যাম্পবেল মনে করেন এই ধারণা সঠিক নয়। আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অক্সিজেন মুক্ত হয়ে বাতাসে মিশে যাওয়ার কোন প্রমাণ নেই। এমন হলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ আরও বেশি হতো।

জার্মানির সরকারি গবেষণা সংস্থা GeoForschungsZentrum এর Geophysicist রেইনার কাইন্ড বলেন - টেকটোনিক প্লেটগুলো না থাকলে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব অনেক কম হতো। হয়তো সেখানে একেবারেই কোন অক্সিজেন থাকতো না। এই পৃথিবী তখন দেখতে মঙ্গলগ্রহের মত হতো। এর ফলে জীবনের বিকাশ খুব কঠিন হয়ে পড়তো। হয়তো জীবনের কোন সূচনাই হতো না।

তথ্যসূত্র
Read More ...

Saturday, September 20, 2008

আগামী দিনের শক্তি যোগাবে চাঁদের মাটি -২

মূল লেখা: How Lunar Soil Could Power the Future
লেখক: Michael Schirber
সূত্র: লাইভ সাইন্স

হিলিয়ামের উৎসঃ

স্পষ্ট আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও হিলিয়াম-৩কে গবেষকরা বাদ দিয়ে থাকেন। এর একমাত্র কারণ হল পৃথিবীতে এর পরিমাণ খুব কম। পারমাণবিক অস্ত্রের ভিতরে অপ্রয়োজনীয় অবশেষ হিসেবে হিলিয়াম-৩ পাওয়া যায়। আর এর মূল্যও অনেক বেশি। ১ গ্রামের দাম ১০০০ ডলার।

সূর্যের যে আলোক প্রবাহ (Solar Wind/ সৌর ঝড়) সেখান থেকে অনবরত হিলিয়াম-৩ সংগ্রহ করা যেতে পারে, কিন্তু পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়ে সূর্যকণাগুলো ভূপৃষ্ঠে না এসে বহির্জগতে বিকিরিত হয়ে যায়। চাঁদের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দুর্বল হবার কারণে এমনটা ঘটে না। গত ৪-৫ বিলিয়ন বৎসরে চাঁদে ইতিমধ্যেই ১ মিলিয়ন থেকে ৫ মিলিয়ন টন হিলিয়াম-৩ জমা হয়ে গেছে।

এই ভাবনার স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। চাঁদ থেকে নিয়ে আসা পাথরগুলোতে ১ বিলিয়নে ১০ থেকে ২০ ভাগ পরিমাণে হিলিয়াম-৩ পাওয়া গেছে। নাসা প্রতিষ্ঠিত চাঁদ ও গ্রহগুলো সম্পর্কে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের Paul Spudis বলেন -" চাঁদে হিলিয়াম-৩ রয়েছে, কিন্তু খুব কম পরিমাণে। এর অর্থ হল ১ টন হিলিয়াম-৩ পেতে হলে লক্ষ লক্ষ টন মাটিকে পরিশোধন করতে হবে।" প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে হিলিয়াম -৩ পেতে হলে চাঁদের ধূলিকণাকে প্রায় ১৩০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট (৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় পোড়াতে হবে।

চাঁদের মাটি থেকে হিলিয়াম-৩ সংগ্রহ করার সম্ভাব্য রোভারের ডিজাইন। এই রোবট সূর্যের আলোকে বিশালাকার ডিশ আয়না দিয়ে প্রতিফলিত করে মাটিকে উত্তপ্ত করে তুলবে।
ছবি কৃতজ্ঞতা: Credit: University of Wisconsin


কুলসিনস্কি ও তার দল ইতিমধ্যেই একটি যন্ত্রের ডিজাইন দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। এই রোভার নিজে নিজে চাঁদের মাটিকে খামচে তুলে নিয়ে ঘনীভূত সূর্যের আলো দিয়ে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে পারবে।
কুলসিনস্কি হিসাব কষে দেখিয়েছেন, এই ধরণের খননকার্য মোট ব্যয় করা শক্তির (চাঁদে যাওয়া আসার শক্তি সহ) চাইতে ৩০০ গুণ বেশি শক্তি আহরণ করতে পারবে। তুলনামূলকভাবে একটি কয়লা খনি তার পিছনে ব্যয় করা মোট শক্তির ১৫-২০ ভাগ বেশি ফিরিয়ে দেয়। তাঁর গবেষকদল সম্ভাব্য খরচ হিসেবে মনে করেন যে চাঁদ থেকে ১ টন হিলিয়াম সংগ্রহ করতে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এটা শুনতে অনেক বেশি মনে হয়। কিন্তু তুলনা করলে দেখা যাবে, ১ ব্যারেল গ্যাসোলিনের দাম যেখানে ১০০ ডলার সেখানে সেখানে ১ টন হিলিয়াম-৩ এর মূল্য মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। কুলসিনস্কি অবশ্য বলেছেন-"আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিলিয়াম সংগ্রহ করা নয়, আমরা শুধু এই তথ্যটা দিতে চাই যে আমরা একে পোড়াতে পারি।"

পোড়ানো সমস্যাঃ
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ পোড়ানোর চাইতে হিলিয়াম-৩ পোড়াতে প্রাথমিকভাবে অনেক অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। এজন্য ITER ঠিক এই মুহূর্তে হিলিয়াম-৩ কে সম্ভাব্য জ্বালানী হিসেবে মনে করছে না।

তবে কুলসিনস্কির দল একটি অন্য উপায়কে নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর নাম IEC, এর মাধ্যমে তারা ফিউসন বিক্রিয়াকে কিভাবে ত্বরান্বিত করা যায় তার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

ITER এর পরিকল্পনা হল চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ব্যবহার করে উচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমা তৈরি করা। কিন্তু IEC বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের (Electric Field) ভিতর দিয়ে পারমাণবিক কণাগুলোকে পরিচালনা করে এই কাজটি করতে চায়।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কুলসিনস্কি ও তার সহযোগীরা তাদের প্রাথমিক যন্ত্রটিতে সীমিত মাত্রার নিউক্লিয়ার ফিউসন তৈরি করতে পেরেছেন। EMC2 Fusion কোম্পানীও একই পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছে।

তবে IEC এর যাবতীয় প্রস্তাবনা ও উপস্থাপনা এখন পর্যন্ত সরবরাহের চেয়ে কম পরিমাণের শক্তি উৎপাদন করছে। আর একারণ অন্যান্য গবেষকগণ মনে করছেন ফিউসন চুল্লীর জন্য হিলিয়াম-৩ ব্যবহারের ধারণা হয়তো কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।

Paul Spudis তার প্রতিক্রিয়া জানাতেগিয়ে বলেন "কখনো শব্দটি কারও কখনো বলা উচিত নয়। আগামী শতাব্দীগুলোতে শক্তি উৎপাদন করার জন্য হিলিয়াম-৩ হয়ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নেবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ হয়তো এখনও আসেনি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আগামীতে সেই সময় আসছে।"

সমাপ্ত
Read More ...