Showing posts with label প্রাণিবিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label প্রাণিবিজ্ঞান. Show all posts

Monday, January 12, 2009

২০০৮ সালের সেরা ১০টি বৈজ্ঞানিক ঘটনা -০১

লার্জ হাড্রন কোলাইডার (Large Hadron Collider. LHC):
সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত এই যন্ত্রটি দিয়ে বিশ্ব সৃষ্টিকালীন সময়ের একটি মুহূর্ত তৈরি করা সম্ভব। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বসৃষ্টিকালীন সময়ের অনেক না জানা প্রশ্নে উত্তর পাওয়া যাবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে এই বিশালাকার মেশিনটি চালু করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় যন্ত্রটি সুন্দরভাবে কাজ করে। সামান্য কিছু ত্রুটির কারণে চালু করার ২ সপ্তাহ পর বন্ধ রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে ২০০৯ সালের জুন মাসের কোন এক সময়ে এই যন্ত্রটিকে আবারো পূর্ণ কার্যক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মঙ্গলের উত্তর মেরু:
ইতিপূর্বে মঙ্গল গ্রহের বিভিন্ন জায়গায় পৃথিবী থেকে পাঠানো যন্ত্র পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু এবারই প্রথম মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুতে একটি নিবিড় গবেষণা চালানো সম্ভব হয়েছে। নাসা'র বিজ্ঞানীরা জীবনের অন্যতম উপাদান জলের খোঁজ করার জন্য মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুকে সবচাইতে উপযুক্ত মনে করেছিলেন। ফিনিক্স নামক এই রোবটটি যদিও জীবনের পক্ষে তেমন কোন প্রমাণ পায়নি। কিন্তু এমন কিছু ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে, যার মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহে জীবনের স্পর্শ ছিল এমন ধারণা করা যেতে পারে। মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুর বিরূপ আবহাওয়ায় ফিনিক্স বেশিদিন কর্মক্ষম থাকতে পারেনি। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে ফিনিক্সের কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়।

জীবনের সৃষ্টি:
যদি জেনেটিক দিক দিয়ে বিচার করা যায়, তাহলে বলতে হবে যে সব প্রাণীই আসলে একই সূত্রে গাঁথা। তা সে বিশালাকার হাতি হোক আর ক্ষুদ্রতর ব্যাকটেরিয়া হোক। ২০০৮ সালে জেনেটিক বিজ্ঞানী ক্রেইগ ভেনটার মানুষের জিনোমের সমস্ত ডিজাইনকে আঁকতে পেরেছেন। প্রাথমিকভাবে ৫৮২০০০টি মূল চিহ্নকে তিনি একত্রিত করেতে পেরেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি জেনেটিক কোডগুলোকে একত্রিত করে একটি ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি করতে চান। ভেনটর নিজেও এ কাজের সফলতা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান, কিন্তু একজন সফটওয়ার ডিজাইনারের উক্তিটি তার বেশ পছন্দের। "যখন তুমি কোড লেখার পদ্ধতিগুলো জানবে, তখন তুমি যেমন খুশি তেমন প্রোগ্রাম লিখতে পারবে"।

চীনের মহাকাশ জয়:

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে প্রথম মিশন পরিচালনা করে ১৯৬২ সালে। চীন মহাকাশে প্রথম মনুষ্যবাহী যান পাঠায় ২০০৩ সালে। দ্বিতীয়বার পাঠায় ২০০৫ সালে। আর তারা তৃতীয়বার মহাকাশ জয় করে ২০০৮ সালে। প্রথম প্রচেষ্টায় তারা একজন মানুষকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল। দ্বিতীয়বার পাঠায় দুইজনকে, আর তৃতীয়বার পাঠালো তিনজন মহাকাশযাত্রীকে। এ যাত্রায় চীনারা মহাকাশে পদাচারণা করে। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে মাত্র ৫ বছরের মাথায় এরকম বিশাল সাফল্য অর্জন করা কম কথা নয়। তারা আশা করছে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠাবে। ইতিমধ্যে তাদের স্থাপন করা কৃত্রিম উপগ্রহটি সফলতার সাথে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে।

ধারণার চাইতে বেশি গরিলা রয়েছে:
বিজ্ঞানীরা যা ভাবতেন, তার চাইতে দ্বিগুণেরও বেশি নিম্নভূমির গরিলা (Lowland Gorilla) কঙ্গোর জঙ্গলে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। Wildlife Conservation Society পরিচালিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ১২৫০০০টিরও বেশি গরিলা রিপাবলিক অব কঙ্গোর গহীন অরণ্যে চুপিসারে দিনানিপাত করছে।

সূত্র: টাইম
Read More ...

Wednesday, November 26, 2008

ডিম আগে না মুরগি আগে?


ডিম এবং বাসা বামপাশের 'Oviraptor' অথবা ডানপাশের 'A relative of Velociraptor' যে কোন এক প্রজাতির হতে পারে।

ডিম আগে না মুরগি আগে এই বিতর্কটা বেশ পুরনো। অনেক আগে থেকে বিজ্ঞানীমহলে এই বিষয়টা একটা রহস্যময় বিষয় হয়েছিল। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে এর একটা সমাধান খুঁজে পাওয়া গেছে। বিরল প্রজাতির এক প্রকার ডাইনোসরের বাসার জীবাস্ম পাওয়া গেছে যা গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা আশার বাণী শুনিয়েছেন। ৭৭ মিলিয়ন বৎসর আগের এই বাসাটিতে পাঁচটি ডিম ছিল। মা ডাইনোসর এই ডিমগুলোতে তা দেয়ার সময় হঠাৎ করে জলের উচ্চতা বেড়ে গিয়েছিল। ফলে চারপাশ প্লাবিত হয়ে যায়। মা ডাইনোসর বাধ্য হয় বাসা ছেড়ে চলে যেতে। ডিমসহ এই সম্পূর্ণ বাসাটা বালির নিচে এতদিন চাপা পড়ে ছিল। লম্বায় এই বাসা প্রায় ১.৫ ফিট (আধা মিটার) এবং ওজনে ১১০ পাউন্ড (৫০ কেজি)। বিজ্ঞানীরা এখন বেশ জোর গলায় বলছেন মুরগী নয় প্রথমে ডিম এসেছে। আলবার্তাতে অবস্থিত ক্যালিগারির বিশ্ববিদ্যালয়ের Paleontologist ডার্টা জেলিনস্কি (Darta Zelenitsky) বলেন এটা এখন পরিষ্কার যে মুরগি নাকি ডিম আগে এসেছে। মুরগী বা পাখিজাতীয় প্রাণীদের আগমনের বহু পূর্বেই ডাইনোসররা ডিম পাড়তে শুরু করেছিল। অতএব মুরগি নয় ডিম আগে এসেছে একথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে।

বালুঢাকা নদীর তীরে অবস্থিত এই বাসার ফসিলটি ১৯৯০ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল। ক্যালিগারির আলবার্তাতে অবস্থিত কানাডা ফসিল একাডেমিতে এতদিন রাখা ছিল। ২০০৭ সালে বাসার ফসিলটি Royal Tyrrell Museum of Paleontology in Albertaতে এনে রাখা হয়।

হাঁসের মতো চঞ্চুযুক্ত এক বিরল ধরণের ডাইনোসর এই ধরণের বাসা বানাতো। জেলিনস্কি প্রথম এই বাসাটিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বুঝতে পারেন যে এটা এক ধরণের ছোট সাইজের মাংশাসী ডাইনোসরের।
ফসিল হয়ে যাওয়া ডিমের ছাপ এবং ভেঙে যাওয়া খোসার টুকরো
উত্তর আমেরিকাতে ডাইনোসরের বাসা খুব কম আবিষ্কৃত হয়েছে। এর আগে যেগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো ছিল Troodon নামক আর এক জাতের ডাইনোসরের। কিন্তু এই বাসাটি যে ঠিক কোন প্রজাতির ডাইনোসরের তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে সেটা যে ছোট আকৃতির ডাইনোসর এবং এই জাত থেকেই যে জুরাসিক যুগের সময়ে পাখির উদ্ভব হয়েছে তা নিশ্চিত।

বাসাটিকে পর্যবেক্ষণ করে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
* বাসাটি একবারে ১২টি ডিম তা দেয়ার মতো করে তৈরি।
* মাঝখানে কিছুটা ঢালু এই বাসাতে ডিমগুলো একমুখি করে সাজানো ছিল।
* ডিমগুলো প্রায় ৫ ইঞ্চি (১২ সে.মি.) লম্বা।
* মা ডাইনোসর বাসার উচ্চ অংশে ডিম পারতো। ডিমগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ে সোজা হতো।
* মা ডাইনোসর একবারে দুইটি ডিম পারতো। একবারে একাধিক ডিম পাড়ার ঘটনা কুমিরদের মধ্যেও দেখা যায়। কোন কোন পাখিও এরকম করে, কিন্তু বেশিরভাগ পাখি একবারে একটা ডিম পাড়ে। কুমিররা এই ডাইনোসরগুলোর অধিকতর নিকটতম প্রজাতি।

সূত্র:
* লাইভ সাইন্স
* ইয়াহু নিউজ
Read More ...

Friday, July 25, 2008

বড়পাসোরা টেগরী

কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট এর সংগ্রহশালায় রক্ষিত ৪৭ ফুট দীর্ঘ ভারতীয় ডাইনোসর 'বড়পাসোরা টেগরী' এর জীবাশ্ম।
ছবি: শ্রী মনোজিৎ চন্দ্র
Read More ...

Wednesday, July 16, 2008

সোনালি সিংহ ট্যামারিন

Lion Tamarins
Family: Callitrichidae (L. rosalia)

ট্যামারিন (Tamarin) এর আরেক নাম মারমোসেট (Marmoset)। স্থানীয়রা এদেরকে mico-leão নামে ডেকে থাকে। এদের বাস দক্ষিণ মধ্য আমেরিকার কোস্টারিকা থেকে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত। আমাজন নদীর মোহনা এবং বলিভিয়ার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত এদের দেখা যায়। এদের গায়ের রঙ বিভিন্ন রঙের হতে পারে। কালো, গাঢ় কালো, কালোর বিভিন্ন মিশ্রণ, বাদামী ও সাদা বিভিন্ন রঙের ট্যামারিন দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রজাতির লম্বা লম্বা গোঁফ আছে। ট্যামারিন গোষ্ঠির সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রজাতি হল সোনালী সিংহ ট্যামারিন (Golden Lion Tamarin)।

এই ট্যামারিনের সমস্ত গায়ে হালকা কমলা থেকে সোনালী রঙের লোম রয়েছে। মাথার গাঢ় সোনালী চুলগুলো বেশ লম্বা। পায়ে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরার উপযোগী লম্বা শক্ত নখ রয়েছে। সিংহের মত গলাভরা কেশর আছে বলে এদেরকে সিংহ ট্যামারিন বলা হয়।

কাঠবেড়ালীর চেয়ে একটু বড় এই ট্যামারিনদের শরীরের আকার প্রায় ৩৩৫ মিলিমিটার (১৩.২ ইঞ্চি) লম্বা আর বাহারী লেজটা লম্বায় ৪০০ মি.মি. (১৬ ইঞ্চি)। পুরুষরা ওজনে প্রায় ৭০০ গ্রাম। বন্য অবস্থায় অবস্থায় অবশ্য এর চাইতে বেশি ওজনের ট্যামারিন পাওয়া গেছে। সাধারণত স্ত্রী ট্যামারিন ওজনে ৫৫০ গ্রাম হয়, কিন্তু গর্ভবতীদের ওজন ৭৯০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বর্তমানে একমাত্র ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও (Rio de Janeiro) প্রদেশের এক সংরক্ষিত বনভূমিতে এদেরকে প্রাকৃতিক অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এরা প্রথম বিপন্ন হিসেবে ১৯৮২ সালে তালিকাভূক্ত হয়। ১৯৯৬ সালের দিকে এরা আশংকাজনকভাবে বিলুপ্তপ্রায় অবস্থায় পৌঁছে যায়। একসময় আটলান্টিকের পূর্ব উপকূল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যদেশ পর্যন্ত চষে বেড়াত। এই এলাকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ছিল এদের বাসস্থান। কিন্তু নির্বিচার গাছ কাটার ফলে এদের বিচরণক্ষেত্র কমে গেছে। কৃষি ও মানুষের বাসস্থানের জন্য তাদের প্রিয় বাসভূমির ৯০% ভাগেরও বেশি এলাকার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে এদের প্রাকৃতিক বাসভূমির মাত্র ২% ভাগ অবশিষ্ট আছে।

এরা সাধারণতঃ সর্বভূক। ফল, গাছের শরীরের বিভিন্ন অংশ, ফুল, মাকড়সা, পোকা, গিরগিটি, ছোট ছোট প্রাণী, পাখির ডিম কোন কিছুতে এদের অরুচি নেই। এরা যে বুদ্ধিমান তা এদের খাদ্য সংগ্রহের আর একটি বিশেষ ঘটনা দেখে বোঝা যায়। এরা গাছের শরীরে লম্বা নখ দিয়ে আঁচড় কাটে। এই ক্ষতস্থান দিয়ে ঝরে পরা রস এবং আঠা এরা পরমানন্দে খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। একটা মজার বিষয় পর্যবেক্ষণে লক্ষ করা গেছে। এক এক প্রজাতির ট্যামারিন তাদের খাদ্যাভাসের বৈচিত্র্যের কারণে নির্দিষ্ট এক জায়গায় বাস করে। তাই একটি নির্দিষ্ট এলাকায় একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ট্যামারিন বাস করে। কোন একটি জায়গায় একটির বেশি প্রজাতিকে একত্রে দেখতে পাওয়া যায় না।

ট্যামারিনরা উঁচু উঁচু গাছের মাথায় বাস করতে পছন্দ করে। সূর্যের প্রখর তাপের প্রতি এরা খুব সংবেদনশীল, তাই সূর্যের আলো থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এরা ঘন হয়ে জন্মানো পাতার আড়ালে বসে বিশ্রাম নেয়। এরা দলবদ্ধভাবে বাস করে। এক একটা দলে ৪ থেকে ১৫ জনকে দেখা যায়। এক একটা দল ২৫ থেকে ১০০ একর পর্যন্ত জায়গায় নিজেদের খাদ্য খুঁজে বেড়ায়। পরস্পরের মধ্যে বিভিন্ন রকম শব্দ করে এরা পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে। এরা সাধারণত আক্রমণাত্মক নয়।

বনের ছোট ছোট জলাশয়ে ভেসে বেড়ানো পোকা খাওয়ার জন্য এরা মাটিতে নামে। সারাদিন এরা খাবারের সন্ধানে নিজেদের এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নিজের বাসায় ফেরে। বড় বড় গাছের ভাঙা কোটরে এরা বাস করে। শরীর থেকে ঝরে পড়া অসংখ্য লোম কোটরের ভিতরটা মোড়ানো থাকে।

লায়ন ট্যামারিনের পূর্ণবয়স্ক হতে লাগে ২ থেকে ৩ বৎসর। পুরুষ প্রজাতি প্রজননক্ষম হয় ১২-১৮ মাসের মধ্যে। কিন্তু নারীরা ২৪ মাসের আগে প্রজননক্ষম হয় না। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস এদের প্রজনন ঋতু। ১২৬ থেকে ১৩০ দিনের গর্ভধারণ শেষে এরা একসাথে দুইটা বাচ্চার জন্ম দেয় (বেশিরভাগ সময়)। বৎসরে দুইবার এরা দুইটি করে বাচ্চা প্রসব করে। ৯০ দিনের মধ্যে শাবকরা নিজে নিজে খাদ্য গ্রহণে সক্ষম হয়ে ওঠে। জন্মের তিন সপ্তাহ পর থেকে বাচ্চা ট্যামারিনের লালন পালনের ভার পুরুষের উপর বর্তায়।

সাধারণত এদের আয়ু ৮-১৫ বৎসর। তবে চিড়িয়াখানায় এদেরকে ১৮-২৪ বৎসর পর্যন্ত বাঁচতে দেখা গেছে।

ঈগল, সাপ, জাগুয়ার সহ বিভিন্ন মাংশাসী প্রাণী এদের অন্যতম শত্রু।

ছবি ও তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, হনলুলু চিড়িয়াখানা এবং অন্য সাইট এক, দুই
Read More ...

Monday, July 7, 2008

লাল পান্ডা

লাল পান্ডা
The Red Panda
(
Ailurus fulgens)

নেপাল ও চীনের দক্ষিণ প্রান্তের বনে এই লাল পান্ডার বাস। এদের নামকরণ করা হয়েছে নেপালি ভাষায়। নেপালি ভাষায় "nigalya ponya" শব্দের অর্থ যেসব প্রাণী বাঁশ এবং বিভিন্ন ধরণের গাছ খায়। ইংলিশ নাম Shining cat। খুব জোরে জোরে চীৎকার করে বলে এদেরকে সহজেই দেখা যায়। এরা সম্পূর্ণরূপে উদ্ভিদভোজী। এদের কথা প্রথম লিখিত অবস্থায় পাওয়া যায় ১৩শ শতকের ছৌ রাজবংশের সময়।

এরা রেকুন প্রজাতির প্রাণী। দেখতেও প্রায় রেকুনের মত। লাল পান্ডা বেশ লাজুক এবং শান্ত। দিনের বেশিরভাগ সময় গাছের ডালে ঘুমিয়ে কাটায়। সমস্ত শরীর লালচে রঙের ফার দিয়ে মোড়ানো।

আকারে গৃহপালিত বিড়ালের চেয়ে একটু বড়। ওজন প্রায় ৪-৬ কেজি।

এদের শরীরের প্রধান রং বাদামী, পেট, গলা ও বাহুগুলো কালো রঙের। মাথা, মুখ, চোখ ও হাত-পায়ের সম্মুখভাগ সাদা রঙের। আয়ু প্রায় ১২-১৪ বৎসর।

এরা প্রধানত: বাঁশ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের ফল, গাছের শিকড় এবং মাঝেমধ্যে পাখির ডিম এবং ছানা খেয়ে থাকে।

১-৪ বৎসরের মধ্যে স্ত্রীপ্রজাতির লাল পান্ডা বাচ্চা প্রসব করে। এদের গর্ভধারণকাল ১১২-১৫৮ দিন। একবারে এরা তিনটার বেশি বাচ্চা প্রসব করে।

এরা সাধারণত সকাল এবং অপরাহ্নে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এই সময় তারা খাবার খেয়ে থাকে। আর দিনের অন্যান্য সময় ঘুমিয়ে কাটায়। এরা সাধারণত একা থাকে। তবে প্রজননকালে জোড়া বাঁধে।

এদের সম্পর্কে কয়েকটা মজার তথ্যঃ
  • চীনাভাষায় এদের নাম Hunho অথবা Firefox, গায়ের রং এবং আকারের জন্য এদের এরকম নাম হয়েছে।
  • জায়ান্ট পান্ডার মত এদের অতিরিক্ত একটা বৃদ্ধাঙ্গুলি আছে। এটা আসলে কোন আঙ্গুল নয়, শরীরের একটা হাড়ের বর্ধিতাংশ মাত্র।
  • একটি লাল পান্ডা তাদের শরীরের ওজনের ৪৫ ভাগেরও বেশি ওজনের খাবার খেয়ে থাকে। দিনে প্রায় ২০০,০০০টি বাঁশের পাতা এরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে।
  • লাল পান্ডা প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮২১ সালে। অথচ জায়ান্ট পান্ডা আবিষ্কৃত হয় এর ৪৮ বৎসর পরে ১৮৬৯ সালে।
বনের ভিতর মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে এদের অবস্থা ধীরে ধীরে সঙ্গীন হয়ে উঠেছে। যার জন্য এদের নাম বিপন্ন প্রজাতির খাতায় উঠে গেছে।

তথ্য ও
ছবি সূত্র: বিবিসি, উইকিপিডিয়া, ওয়েলিংটন চিড়িয়াখানা, স্মিথসন চিড়িয়াখানা
Read More ...

Tuesday, July 1, 2008

প্রবোসিস বানর

প্রবোসিস বানর
Proboscis Monkey

Common Name: Monyet Belanda

Genus: Nasalis
Species: larvatus
(Nasalis larvatus)

এই বানর তার লম্বা, মাংশল ও অদ্ভুত নাকের জন্য বিখ্যাত। এদের গায়ের রঙ হালকা বাদামী। বিশ্বের মধ্যে একমাত্র বোর্ণিও দ্বীপের উপকূল অঞ্চলে এরা বাস করে। বিপন্ন প্রাণীর খাতায় নাম লিখিয়ে বর্তমানে এরা বিলুপ্তির পথে। বোর্ণিও দ্বীপে তিনটি দেশের অংশ আছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ব্রুনেই এর অধিকারভুক্ত বোর্ণিও দ্বীপের নদী কিংবা স্বাদু জলের আশেপাশে ম্যানগ্রোভ বন এবং নিম্নভূমিতে এরা বাস করতে পছন্দ করে। নদীর ৬০০ মিটারের বেশি দূরে এদেরকে কম দেখা যায়।

এরা সাধারণত গাছে থাকে। তবে স্থান পরিবর্তন করার জন্য কখনও কখনও মাটিতে নেমে আসে। এদের সাধারণত সকালবেলায় খাবার গ্রহণ করে থাকে। দিনের বাকী অংশটা গাছের ডালে বিশ্রাম নিয়ে ও ঘুমিয়ে কাটায়। আবার সন্ধ্যা হবার পূর্ব মুহূর্তে খাবার গ্রহণ করা শুরু করে। এদের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন রকমের ফল, বীজ এবং গাছের কচি পাতা। এদের পাকস্থলী কয়েকভাবে বিভক্ত। হজমের কাজ চলার সময় এদের পাকস্থলী প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। এর ফলে এদের পেট বেশ মোটা হয়। শরীরে বেশিরভাগ অংশই এদের এই পেট।

এরা ১১-৩২ জনের দলে দলভূক্ত থাকে। তবে কোন কোন দলে ৬০ থেকে ৮০টি বানরকে একসঙ্গে দেখা গেছে। এই বানরদের সবচাইতে দর্শণীয় অঙ্গ হল পুরুষ প্রজাতির নাক। নারী প্রজাতির নাক অবশ্য পুরুষদের মত বড় হয় না। তবে সাধারণ বানরদের চাইতে বড় হয়। পুরুষদের নাক এত বড় হয় যে তা মুখের উপর ঝুলে থাকে। কোন কিছু খাওয়ার সময় হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে হয়। যখন এরা রেগে যায় তখন এই নাক লাল হয়ে যায়।
এরকম অদ্ভূত নাক থাকার কারণ কি তা বিজ্ঞানীরা জানতে পারেননি। তবে কোন কোন প্রাণীবিজ্ঞানী ধারণা করেন এর সাথে হয়তো প্রজননের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে। কারণ দেখা গেছে স্ত্রী প্রজাতির বানররা লম্বা নাকওয়ালা পুরুষদেরকে বেশি পছন্দ করে।

পুরুষ বানররা নারী বানরের চাইতে আকারে বড় হয়। গড়ে পুরুষরা লম্বায় প্রায় ২৮ ইঞ্চি বা ৭২ সে.মি. পর্যন্ত হতে পারে। লেজ হতে পারে ৭৫ সে.মি. লম্বা এবং ওজন হতে পারে ২৪ কে.জি. (৫৩ পাউন্ড)। নারীরা হতে পারে ৬০ সে.মি. লম্বা এবং ১২ কে.জি. (২৬ পাউন্ড)।

এরা একবারে একটা বাচ্চার জন্ম দেয়। তাদের গর্ভধারণকাল ১৬৬ দিন। শিশুর মুখের রঙ গাঢ় নীল রঙ এবং শরীরের রঙ কাল হয়। বয়স ৩-৪ মাস হলে এই রঙ পরিবর্তন হয়ে বাদামী রঙের হয়ে যায়। মায়ের সাথে শিশু ১ বৎসর পর্যন্ত থাকে। এরা প্রায় ২০ বৎসর পর্যন্ত বাঁচে।

প্রবোসিস বানর মানুষকে এড়িয়ে চলে। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি সহ বনের মধ্যে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধির ফলে এদের সংখ্য ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এদের প্রধান শত্রু মানুষ এবং ধূসর চিতাবাঘ। নদীর কুমিররাও এদের শত্রু। নদীতে সাধারণত প্রবোসিস বানররা নামে না। কিন্তু চিতাবাঘের আক্রমণ থেকে বাচার জন্য যখন এরা নদীতে নামে তখন এত সাবধানে নদীতে সাতরায় যে জলে কোন আলোড়নের সৃষ্টি হয় না। কুমিরের হাত থেকে বাঁচার জন্য এরা খুব সাবধানে সাতার কাটতে পারে। এরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে নদীতে নামে। যদি কোন বানর কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় তাহলে সবাই মিলে জলের মধ্যে লাফালাফি শুরু করে। ফলে কুমির ভয় পেয়ে যায়।

এরা নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করে খেতে পছন্দ করে। এরা বন্দী অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ করে না। তাই এদেরকে চিড়িয়াখানায় দেখা যায় না। তবে এদের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ার চিড়িয়াখানা এদেরকে লালন করার পরিকল্পনা করছে।

তথ্য এবং ছবিসূত্র: সাইট ১, সাইট ২, সাইট ৩, সাইট ৪
Read More ...

Friday, June 27, 2008

আদিমতম চতুষ্পদী ভেন্তাস্টেগা

আজকের সমকাল পত্রিকায় একটি খবর পাওয়া গেল। প্রাণীবিজ্ঞানের ইতিহাসে আদিমতম প্রাণী নিয়ে আগ্রহ সবসময়ই ছিল। আজকের খবরটা আদিমতম চতুষ্পদী প্রাণীটিকে ঘিরে। এতদিন সংশয় ছিল। কিন্তু এই নতুন খবরে নির্দিষ্টভাবে জানা গেছে আদিমতম চতুষ্পদীর সঠিক পরিচয়। বিস্তারিত পত্রিকা থেকেই তুলে দিলাম।


আদিমতম চতুষ্পদী প্রাণী ভেন্তাস্টেগা (Ventastega curonica) র ছবি নিয়েছি এখান থেকে। ছবি একেছেন 'ফিলিপ রেনে'। ছবির নিচে বাম পাশে দুটো Bothriolepis কে দেখা যাচ্ছে।

সমকাল ডেস্ক
আদিমতম চতুষ্পদীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। প্রাণীটির করোটি ও অন্যান্য নিয়ামক নিদর্শন উদ্ধার করেছেন একদল গবেষক। তারা মনে করছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে প্রাচীন চার পা-ওয়ালা প্রাণী। এ অনুসন্ধান মাছ থেকে ভূমিতে বিচরণশীল অগ্রসর প্রাণের বিকাশের বিবর্তনী প্রক্রিয়াকে বুঝতে সহায়তা করবে। জীবাশ্মটি ৩৬ কোটি ৫০ লাখ বছরের পুরনো। খবর এপি অনলাইনের।

ভেন্টাস্টেগা কুরোনিকা নামের প্রাণীটির করোটি, স্কন্ধ এবং শ্রোণির অংশবিশেষ সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র লাতভিয়ায় পাওয়া গেছে। এটি জলচর প্রাণী। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারের বৃহস্পতিবারের সংখ্যায় প্রকাশিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে গবেষকরা তার কথা জানিয়েছেন।

গবেষকরা বলেন, ভেন্তাস্টেগা সম্ভবত তার ধারায় বিবর্তনের শেষ ধাপ; তারপরও একে খুঁজে পাওয়ায় মাছ থেকে চতুষ্পদীতে বিবর্তনের প্রক্রিয়াকে ভালো করে বোঝা যাবে। জলচর চতুষ্পদীরাই পরে উভচর, পাখি এবং স্তন্যপায়ীতে বিবর্তিত হয়েছে।

ভেন্তাস্টেগার চেয়েও পুরনো একটি প্রাণীর ফসিল এর আগে পাওয়া গেছে। তবে সেটি যত না চতুষ্পদী তার চেয়ে বেশি মাছ। ভেন্তাস্টেগা তার উল্টো, অর্থাৎ এটি যত না মাছ তার চেয়ে বেশি চতুষ্পদী। হিংস্র চেহারার ভেন্টাস্টেগা বাস করত অগভীর ঈষৎ নোনা পানিতে। এর দৈর্ঘ্য তিন থেকে চার ফুট। মাছ খেয়ে প্রাণ ধারণ করত। দূর থেকে দেখলে এটিকে ছোট্ট কুমিরের মতো দেখায়। তবে কাছ থেকে দেখলে এর পিঠে একটা পাখনার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান নিবন্ধক সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনী জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক পের আহলবার্গ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই বালুময় সৈকতে উঠে আসতে পারত। সাধারণত এটি কম স্রোতের খাড়ি এলাকায় ঘুরাফেরা করত এবং খাড়িতে আটকে পড়া মাছ শিকার করত।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পৃথিবীতে ডাইনোসরের আবির্ভাবের কমপক্ষে দশ কোটি বছর আগে ভেন্টাস্টেগা আবির্ভাব হয়েছিল।

আহলবার্গ জানান, চতুষ্পদীরা সরাসরি ভেন্টাস্টেগার উত্তর-পুরুষ, একথা বিজ্ঞানীরা মনে করেন না। তবে এটি চতুষ্পদী বর্গেরই সদস্য। এটি চতুষ্পদী বর্গের বিক্ষিপ্ত একটি শাখা, যা কোনো উত্তরসূরি না রেখেই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। সে সময় অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের আরো অনেক প্রাণী ছিল। বিবর্তনের ধারায় এরা মধ্য-পর্যায়ী প্রাণী। ভেন্টাস্টেগা বিবর্তনী জীববিজ্ঞানীদের প্রভূত উপকারে আসবে।

পুরো জীবাশ্মটি পাওয়া গেলে আরো ভালো হতো। আহলবার্গের দল ভেন্টাস্টেগার পা এবং বুড়ো আঙুল খুঁজে পায়নি। তবে তারা সার্বিক বিবেচনায় এ সিন্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এটি চতুষ্পদীই ছিল। বিজ্ঞানীরা এখন একটা বিষয়ে ভাবিত, কেন মাছের দেহে পা গজানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো?
--------
সম্পূর্ণ ভেন্টাস্টেগার এই কল্পিত ছবিটি সংগ্রহ করেছি এখান থেকে
Read More ...

Wednesday, June 18, 2008

পাতাবহুল সাগরড্রাগন

কিছু কিছু প্রাণী আছে যেগুলো তাদের বৈশিষ্ট্য ও গুণগত দিক থেকে বেশ মজার। তাদের চেহারা, কাজকর্ম অন্যান্য প্রাণীদের মত স্বাভাবিক বা সাধারণ নয়। এই ধরণের কিছু মজার ও বিস্ময়কর আকর্ষণীয় প্রাণী নিয়ে আজ থেকে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটা পোস্ট দিব। আজকে আলোচনা করছি অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে প্রাপ্ত পাতাবহুল সাগরড্রাগন নিয়ে।

পাতাবহুল সাগরড্রাগন
(Leafy Seadragon, Phycodurus eques)


চীন পুরাণ থেকে এদের নামকরণ করা হয়েছে। সাগরের অগভীর এলাকা যেখানে নানারকম শৈবালের জঙ্গল গড়ে ওঠে, সেখানে এদেরকে দেখতে পাওয়া যায়। ৫০ মিটারের বেশি গভীরে পাথর ও সাগরের তলদেশের ঘাসের ফাঁকে এরা বাস করে। গায়ের রং, শরীরে কিছু বর্ধিত অঙ্গ সবকিছুই শ্যাওলার মত। এদের শরীরে সবুজ, কমলা বা সোনালী আভার মত রঙের মিশ্রণ দেখা যায়। আগাছার মত শরীরের পাতার মত অংশগুলো এদেরকে শ্যাওলার ফাঁকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে। তাকিয়ে থাকলেও চোখে পড়ে না। শুধুমাত্র অনুসন্ধানী অভিজ্ঞ চোখ এদেরকে দেখতে পায়। কাঁপতে থাকা হালকা রঙের পাখনা ও এদিক ওদিক তাকানো চোখ দেখে এদেরকে চিহ্নিত করা যায়। এরা লম্বায় প্রায় ১৮ ইঞ্চি বা ৪৫ সে.মি. এর মত হয়।

সাগরঘোড়ার মত এই প্রাণীদের পুরুষরা বাচ্চা প্রস্ফুটনে সহায়তা করে। নারী প্রজাতিরা একবারে ১৫০ থেকে ২৫০টার মত উজ্জ্বল গোলাপী রঙের ডিম পাড়ে। নারী প্রজাতির প্রাণীরা এই ডিমগুলোকে লম্বা টিউব দিয়ে পুরুষ প্রজাতির লেজের নীচে মৌচাকের মত জায়গায় জমা করে। এই জায়গাটির নাম "তা দেয়ার জায়গা" (Brood Patch)। ডিমগুলো এখানে ৮ সপ্তাহের মত থাকে। বাচ্চা প্রস্ফুটনে সাহায্য করার জন্য পুরুষরা তাদের লেজ বারবার নড়াচড়া করে।

এদের কোন দাঁত কিংবা পাকস্থলী নেই। লম্বা ফানেলের মত টিউব দিয়ে এরা প্লাঙ্কটন, ছোট মাছ বা চিংড়ি খেয়ে থাকে। সাধারণত শান্ত, হালকা ঠাণ্ডা জলে এরা বাস করে। অস্ট্রেলিয়ার উপকূল এদের প্রধান বাসস্থান। দূষণের কারণে এদের জীবন বিপন্ন হবার কারণে অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৯৮২ সাল থেকে এদেরকে সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে রক্ষা করে আসছে।
Read More ...

Tuesday, June 3, 2008

বর্ণান্ধতার পরীক্ষা

যাদের চোখে রং দেখার বা চেনার কোন সমস্যা নেই তারা নিচের ছবির সংখ্যাগুলি অনায়াসে স্পষ্ট দেখতে পাবে। কিন্তু কেউ যদি সংখ্যাগুলো দেখতে না পারে তাহলে তাকে বর্ণান্ধ না বলে উপায় থাকবে না। সাধারণ জীবন যাপনে এর কোন খারাপ প্রভাব নেই। তবে কিছু কিছু কাজ বা চাকুরি আছে যেগুলোতে এই ধরণের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে অযোগ্য বলে মনে করা হয়।
সাধারণত এশিয়ার ৪%-৬% মানুষ, ইউরোপে ৬%-৮% মানুষ এবং আফ্রিকার ২%-৪% মানুষের চোখে বর্ণচেনার সমস্যা রয়েছে।
এই পরীক্ষাটি নিজে নিজেই করা যায়। নীচের ছবিটি মনোযোগের সাথে লক্ষ্য করুন। প্রয়োজনবোধে ছবিটির উপর ক্লিক করে তাকে একটু বড় করে নিন। এবার দেখুনতো পাশে লেখা সংখ্যাটি বর্ণিল বিন্দুর গোলকের মধ্যে দেখতে পান কি না?

Read More ...

Sunday, May 18, 2008

নিরাপত্তার জন্য বর্ণ ২

নিজের এবং পরিবারের তথা পরবর্তী বংশধরের নিরাপত্তার জন্য প্রাণিদেরকে বিভিন্ন রকম পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়। লক্ষ লক্ষ বৎসরের অভিযোজন তাদের বহিরঙ্গে কিছু পরিবর্তন এনে দেয়। উপরের ছবিতে জেব্রাদের পরস্পরের গায়ের রঙ এমনভাবে মিশে গেছে যে ঠিক কয়টি জেব্রা আছে তা বের করা কঠিন। আবার নির্দিষ্ট কোন একটি জেব্রাকেও সহজে চোখে নাও পড়তে পারে। শিকারী প্রাণি বিশেষত সিংহের প্রিয় খাদ্য হল এই জেব্রা। আর সহজে শিকারের জন্য বাচ্চা জেব্রা খুব উপযুক্ত। কিন্তু উপরের ছবির বাচ্চা জেব্রাটি এমনভাবে পরিবারের বড়দের গায়ের সাথে মিশে গেছে যে চট করে তাকে চোখে পড়ে না। ক্ষুধার্ত সিংহের পক্ষে তাকে চিহ্নিত করাও কঠিন। সাদা-কালো রঙের মিশ্রণ বাচ্চা জেব্রাটিকে অনেকটাই নিরাপত্তা দিয়েছে। ছবিতে কয়টি জেব্রা আছে? ৮টি নাকি ৯টি?
Read More ...

Monday, May 12, 2008

নিরাপত্তার জন্য বর্ণ ১

প্রাণীরা নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রকম পদ্ধতি গ্রহণ করে। প্রকৃতি তাদের মধ্যে এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য তৈরি করে দেয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে গায়ের রঙ এবং ডিজাইন। এই বিশেষ রঙ ও ডিজাইন শিকারী প্রাণীর হাত থেকে বাঁচবার জন্য খুব কাজে লাগে। প্রকৃতির মধ্যে তারা এমনভাবে মিশে থাকে যে শিকারী প্রাণী নির্দিষ্ট করে তাকে চিহ্নিত করতে পারে না। এই সুযোগটার জন্যই প্রকৃতির যাবতীয় যত আয়োজন। আজকের ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে চড়ুই পাখিটি তার গায়ের রঙের কারণে মাটির শুকিয়ে যাওয়া বিভিন্ন পাতার সাথে এমনভাবে মিশে আছে চট করে তাকে চোখে পড়ে না। বিভিন্ন শিকারী পাখির দৃষ্টিকে ধোঁকা দেয়ার জন্য চড়ুই পাখির গায়ের রঙ তাকে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়।

Read More ...

Sunday, May 11, 2008

সাঁতারু ডাইনোসর

বিভিন্ন সিনেমা ও বইপত্র ঘেঁটে নানারকমের ডাইনোসরকে আমরা চিনে ফেলেছি। এর মধ্যে সাঁতারু ডাইনোসর এর নাম এতদিন ছিল না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা ওয়াইওমিং (Wyoming) এ এক নতুন ধরণের ডাইনোসরের পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ বৎসর আগে এরা সানন্দে সাঁতার কেটে বেড়াত।

ধারণা করা হয় এদের উচ্চতা ৬ ফুট ছিল। বর্তমানকালের উটপাখির সমান। এরা ছিল মাংসাশী। বেশিরভাগ সময় নদী বা সাগরের মাছ খেয়েই জীবনধারণ করত।

এর আগে বিজ্ঞানীরা সাঁতারু ডাইনোসরের উপস্থিতির কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সে বিষয়ে গবেষণা বেশিদূর এগোয়নি। এজন্য এদের কোন নামকরন করা হয়নি।

এই সাঁতারু ডাইনোসরদের মধ্যে পাখীর প্রাথমিক কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মনে করা হয় পাখি যে প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে এরাও সেই একই প্রজাতির অংশ। দানবীয় মাংসাশী ডাইনোসর টি-রেক্স (টাইরানোসরাস রেক্স) থেকে এদের বৈশিষ্ট্য একেবারে অন্যরকম।

এদের পায়ের ছাপ যেখানে পাওয়া গিয়েছে সেখানে আরও নানারকম মধ্য জুরাসিক যুগের প্রাণীর পায়ের ছাপ ছিল। এ থেকে বোঝা যায় এরা একা একা বাস করত না। সামাজিক জীব ছিল।


Read More ...

Tuesday, May 6, 2008

বানরের শব্দভাণ্ডার সত্যিই সমৃদ্ধ

হ্যাক হ্যাক হ্যাক পিওউ হ্যাক হ্যাক। এই ধরণের শব্দ আমাদের কানে কোন অর্থ তৈরি করে না। কিন্ত এই শব্দগুলো দিয়ে মোটা-নাক বানর অনেক কথা বলে।

উপরের শব্দগুলি দিয়ে সে বলছে-"আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বানর। আমার নাম মি. এক্স। আমি এই মাত্র একটি ঈগলকে দেখলাম। সে আমাদের মাথার উপরে ঘোরাঘুরি করছে। এখন আমাদের অন্য জায়গায় চলে যাওয়া উচিত।" এক নতুন গবেষণায় এই তথ্যগুলি বের হয়ে এসেছে। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বলছে প্রাইমেটরা ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশকরার জন্য ভিন্ন ভিন্ন শব্দকে একসূত্রে গাঁথতে পারে।

অন্য প্রজাতির বিভিন্ন আচরণের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা আগেই কিছু কিছু বুঝতে পারতেন। যেমন তিমি ও ডলফিনদের বিভিন্ন আচরণ বোঝা সহজ। কিন্তু এক সাম্প্রতিক গবেষণা মানুষ ছাড়া অন্য প্রাইমেটদের ভাবপ্রকাশের দক্ষতাকে অনেকটা পরিষ্কারভাবে উন্মোচন করতে পেরেছে।

স্কটল্যান্ডের সেইন্ট এন্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ক্লাউস জুবেরবুহলার বলেন-"আলাদা আলাদা ডাক কোন নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে না। কিন্তু ধারাবাহিক বা পরপর করা ডাকের বা উচ্চারিত শব্দের নির্দিষ্ট অর্থ আছে।"

তিনি বিষয়টির বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন-"ধারাবাহিকভাবে 'হ্যাক' 'হ্যাক' করে চিৎকার করার অর্থ হল যে একটি ঈগল পাখি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কিন্তু এর সাথে যদি মাঝে মাঝে একবার বা দুই বার 'পিওউ' শব্দটা উচ্চারণ করা হয় তাহলে তার অর্থ কিছুটা পাল্টে যায়। তখন তাকে শব্দকারী জায়গা পরিবর্তন করবে এমন মনোভঙ্গির ঘোষনা হিসেবে বুঝতে হবে।

গবেষক ক্লাউস জুবেরবুহলার তার সহকর্মী কেট আর্নল্ডকে নিয়ে প্রাইমেটদের ভাষাভঙ্গি নিয়ে গবেষণা করছেন। নাইজেরিয়ার গাসাকা গুমটি জাতীয় উদ্যানে মোটা-নাক বানরদের বাস। এই বানরেরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। এক একটি দল একজন পুরুষ ও ছয় থেকে নয়টি নারী বানর এবং তাদের বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে তৈরি হয়। এরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিভাবে সতর্ক সংকেত প্রদান করে তা গবেষকদ্বয় বুঝতে পেরেছেন।

গবেষকরা প্রথমে 'পিওউ' শব্দটিকে ভিত্তি করে তাদের অনুসন্ধান পরিচালনা করেছেন। তারা দেখেছেন যখন পুরুষ বানর ধারাবাহিকভাবে 'পিওউ' শব্দটি উচ্চারণ করে তখন তার অর্থ হল 'আশেপাশে কোন চিতাবাঘ আছে'। 'হ্যাক' শব্দটি যদি 'পিওউ' শব্দটির পরে উচ্চারণ করা হয় তাহলে বোঝা যাবে যে আশেপাশে কোন ঈগলের উপস্থিতি তারা টের পেয়েছে। তবে পুরুষ বানরেরা সতর্ক সংকেত দিতে মাঝে মাঝে এই দুটি শব্দকে একসাথে 'পিওউ হ্যাক' বলে ধারাবাহিকভাবে চিৎকার করে।

গবেষকরা GPS ইউনিট ব্যবহার করে নারী বানরদের সাড়া দেয়াকে যাচাই করেছেন। তারা রেকর্ড করা ডাক বাজিয়ে দেখেছেন যে নারী বানররা তাৎক্ষণিকভাবে এই ডাকে সাড়া দেয়। তারা ঈগলের উপস্থিতিজ্ঞাপক সতর্ক ডাক বাজিয়েছিলেন। নারী বানররা এই শব্দ শুনে আর এক মুহূর্ত দেরী করেনি। সঙ্গে সঙ্গে অন্য জায়গায় চলে গেছে। চিতাবাঘের উপস্থিতিজ্ঞাপক সতর্ক ডাক বাজালে বানরেরা সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলের গভীরে লুকিয়ে পরে। রেকর্ড করা শব্দ শুনেও তারা একই আচরণ করেছে। গবেষকরা 'পিওউ হ্যাক' শব্দদুটোর মিশ্রিত শব্দ তৈরি করে তা বাজিয়ে দেখেছেন যে ফলাফল একই। অর্থাৎ তাদের পর্যবেক্ষণে কোন ভুল ছিল না।

পরিশেষে তারা দলের বাইরের অন্য এক পুরুষ বানরের সতর্ক চিৎকার বাজিয়েছেন। কিন্তু এবারের ফল এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্নরকম। নারী বানররা ভিন্ন পুরুষের সতর্ক চিৎকারে কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় নি। এই শব্দকে তারা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেছে। যদিও সতর্ক চিৎকারটি একটি পুরুষ বানরের ছিল তবুও নারী বানরের এই অগ্রাহ্য করার বিষয়টি গবেষকদেরকে চমৎকৃত করেছে। আমরা জানি প্রত্যেকটি শব্দের শব্দতরঙ্গ ভিন্নরকম। এটা বানরেরাও জানে। তারা দলভুক্ত প্রত্যেকটি বানরের স্বর চেনে। নিজের দলের পুরুষের পরিচিত স্বর ছাড়া অন্য দলের পুরুষ বানরের স্বর তাদের কাছে গুরুত্বহীন। এই বিষয়টি তাদের সমাজমনস্কতার চিহ্ন। নিজস্ব পরিচিত বলয়ে তাদের সামাজিক বন্ধন এভাবেই তারা রক্ষা করে।

জুবেরবুহলার ব্যাখ্যা করে বলেন- 'যদি অনাহূত পুরুষ বানরের 'পিওউ হ্যাক' চিৎকারে নারী বানরেরা সাড়া দেয় তাহলে তাদের সামাজিক স্থিতি বলে কিছু থাকে না। এ বিষয়ে তাদের সামাজিকতা সত্যিই প্রশংসাজনক।'

গবেষকদ্বয় নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছেন প্রাইমেটদের অন্যান্য প্রজাতির মধ্যেও ঘটনার প্রেক্ষিতে চিৎকার ও তাতের সাড়া দেয়ার মনোভাব প্রায় একই রকম। গিবন, ক্যাম্পবেলস বানর, অলিভ কলোসাস বানর বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রায় একই রকম নিজস্ব ধরণের ভাষা ব্যবহার করে। তাদের স্বরযন্ত্রের দুর্বলতার কারণে হয়তো তারা আরও জটিল কোন শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না, কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে করা কিছু ডাকের উপর তাদের স্বগোত্রীয় কিছু নিজস্ব অর্থ আছে। আর এই নির্দিষ্ট ও বিশেষ অর্থবোধক শব্দের প্রতি দলগতভাবে সাড়া দেয় প্রত্যেক প্রজাতি মেনে চলে। আর এর মাধ্যমে তারা পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে।

সূত্র: ডিসকভারি নিউজ

Read More ...

Thursday, May 1, 2008

মেক্সিকোর আকসুলাহটুহল

মেক্সিকো শহরের পাশে একটি লেকের নাম সোচিলিকোহ (Xochimilco)। এই লেকের তলদেশে এক অদ্ভুত ধরণের প্রাণী পাওয়া যায়। AXOLOTL নামের এই প্রাণীটি দেখতে কিছুটা উদ্ভট। এই নামের উচ্চারণ ACK-Suh-LAH-tuhl, এটা এক ধরণের দুর্লভ উভচর প্রাণী। গিরিগিটি সদৃশ এই প্রাণিটি লম্বায় সাধারণত ৬-৮ ইঞ্চি। কিন্তু ১ ফুটেরও বেশি দৈর্ঘ্যের প্রাণী দেখা গেছে। গায়ের রঙ সাধারণত কালো বা গাঢ় বাদামী। কিন্তু সাদা বা এলবিনো হওয়াটা এদের জন্য বিরল নয়।এই আকসুহলাটুহল এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল তার অদ্ভুত পাখনা। মোটা মাথার ঠিক পিছন থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত পাখনাগুলো প্রায় তার নিজ শরীরের সমান বড়।

এরা প্রধানত: সোচিলিকোহ লেকেই বাস করে। অন্যান্য লেকে কদাচিৎ তাদেরকে চোখে পড়ে। জলের গভীরে এদের বাস করা পছন্দ, কিন্তু জলের কিনারেও এরা মাঝেমধ্যে বেড়াতে আসে। জীবনকাল এদের কম নয়। প্রায় ১৫ বৎসর বাছে এক একজন। খাদ্য হিসেবে এদের প্রধান পছন্দ বিভিন্ন রকমের শামুক, কেঁচো, বিভিন্ন পোকার লার্ভা, মাছের পোনা ইত্যাদি। এরা নিজেরা যেমন শিকার করে বেঁচে থাকে তেমনি এরা নিজেরাও বিভিন্ন মাংশাসী প্রাণীর শিকার হয়ে যায়। বড় মাছ, বক এদের অন্যতম শত্রু। তবে মানু্ষও এদের সাথে শত্রুতা করতে কম যায় না।

আকসুলাহটুহল এর সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ মানুষ। ভিন্নরকম শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে একুরিয়াম মাছ হিসেবে এদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। খাদ্য হিসেবেও ভোজনরসিকদের কাছে এরা দারুণ সমাদৃত। এছাড়া লেকের জলের দূষণ এদের জীবনকাল কমিয়ে দিচ্ছে। এ কারণে নাম বিপন্ন প্রাণিদের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

আরও তথ্য পাওয়া যাবে এখানে। ছবি কৃতজ্ঞতা: animals.nationalgeographic.com
Read More ...

Sunday, April 13, 2008

সেলুলোজে প্রাণ

ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এখান থেকে

এতদিন পর্যন্ত মানুষের খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো জৈবিক পদার্থ ছিল এক ধরণের প্রোটিন। প্রায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ বৎসর আগের এই উপাদানটিকে সবচাইতে বয়স্ক প্রাণের উদাহরণ বলে মনে করা হত। এই প্রোটিন পাওয়া গিয়েছিল ভয়ংকর হিংস্র ডাইনোসর টাইরানোসরাক্স রেক্স ডাইনোসরের ফসিলে। কিন্তু এর চেয়েও পুরনো জৈবিক নমুনা পেয়েছেন নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সেললয়েজের এই সুক্ষ্ম আঁশগুলি ২৫৩ লক্ষ বছরেরও পুরনো। এগুলো পাওয়া গেছে। নিউ মেক্সিকো মরুভূমির এক প্রাচীন লবণ খনি থেকে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আণবিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত বর্জ্যপদার্থগুলো ফেলে দেয়া হয়। মাটির নীচে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে আণবিক বর্জ্যকে পুতে ফেলা হয়। প্রাগৈতিহাসিক এই সেলুলোজ Cyanobacteria দিয়ে তৈরি। এই নীলাভ সবুজ শৈবাল পৃথিবীর সাগর-স্থলের অনেক জায়গায় এখনও পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় এরা পৃথিবীতে ২.৮ বিলিয়ন বছর থেকে আছে।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদেরকে একটি ভিন্ন সম্ভাবনার আশা দিয়েছে। নাসার ওডেসি নামক মহাকাশ যান মঙ্গল গ্রহে প্রচুর লবনের সন্ধান দিয়েছে। এই আবিষ্কারকে মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা খুঁজে পাবার প্রত্যাশা বাতিল করে দিতে পারছেন না। সেলুলোজের আঁশগুলোর আবিষ্কারক ড. গ্রিফিথ বরেন - মঙ্গলগ্রহে প্রাণের প্রমাণ খুঁজতে হলে সেলুলোজের মধ্যে খুঁজতে হবে। ব্যাকটেরিয়া বা গাছপালা খুঁজে লাভ নেই। লবণের স্তুপের মধ্যে সেলুলোজ খুঁজতে হবে। তাহলে যদি প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেলেও যেতে পারে। ডিএনএ'র চাইতে সেলুলোজ অনেক বেশি টেকসই। বাহ্যিক বিভিন্ন অনুঘটক দ্বারা সহজে প্রভাবিত হয় না। রেডিয়েশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা ডিএনএ'র চাইতে অনেক বেশি। মহাকাশের বিরূপ আবহাওয়াতেও যদি এরকম দৃঢ়তা বজায় থাকে তাহলে সেলুলোজ এর মধ্যেই প্রাণের চিহ্ন পাওয়া যাবে।

গ্রিফিত এই লবণের নমুনা মাটির ২০০০ ফুট নিচ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তরল লবণ ও কেলাসিত লবণের কণাগুলো যখন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে তিনি পরীক্ষা করছিলেন তখন বিষয়টি ধরা পরে। তারা অনেক সেলুলোজের আঁশ অটুট অবস্থায় খুজে পান। সেলুলোজের আঁশগুলোর ব্যাস ৫ ন্যানোমিটার। অসংখ্য আঁশ পরস্পরকে জড়িয়ে জট পাকিয়ে আছে। কোন কোনটা দড়ির মত কোনটা আবার মাদুরের মত। গ্রিফিত বলেন- সময়ের দাগ সেলুলোজগুলো গ্রহণ করেনি। ঠিক টাটকা সেলুলোজের মতো ছিল সজীব। এটা দেখতে সেলুলোজের মত, আচরণও করছিল সেলুলোজের মত। বর্তমানকালের সেলুলোজের মত একই এনজাইম দিয়ে তৈরি। তিনি আরও বলেন -ওই লবণের মধ্যে আমরা কিছু ডিএনএ খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু পরিমাণে ছিল অনেক কম।

মহাকাশ গবেষণায় মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছে। মানুষ বহু আগে থেকে সৌরজগতের এই লাল গ্রহটিকে চিনতো। তার সম্পর্কে বিভিন্নরকম কৌতুহল এই আধুনিক যুগে এসেও মেটেনি। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী মঙ্গলগ্রহে পাওয়া লবণগুলো ৩.৫ থেকে ৩.৯ বিলিয়ন বছর আগের। স্বভাবগতভাবে লবণের খনি সবসময়ই জলের উপস্থিতির কথা বলে। সে হিসেবে যখন জল ছিল তখন সেখানে নিশ্চয় প্রাণের উপস্থিতিও ছিল। গ্রিফিনের মতে- সবচেয়ে প্রাচীন প্রাণ বলতে আসলে এক ধরণের গ্লুকোজকে (Polymerizing Glucose) বোঝানো হয়। জীবন তখনও কার্বন অবস্থায় ছিল। সেলুলোজের অন্তরালে ছিল তাদের আশ্রয়। ব্যাকটেরিয়া সেলুলজকে নিজেদের বাড়ির মত মনে করে। তার চারপাশ ঘিরে থাকে। গাছের কাঠামোর প্রধান উপাদান হল সেলুলোজ। কীটপতঙ্গ নিজেদের সেলুলোজের অবয়ব কিছুটা হলেও পাল্টাতে পারে। অর্থাৎ সেলুলোজ প্রাণের অন্যতম একটি উপাদান। আর তাই কোথাও তা সে মঙ্গলগ্রহ হোক আর মহাবিশ্বের যেকোন জায়গাতেই হোক না কেন গ্রিফিথ মনে করেন প্রাণ খুঁজতে হলে সেলুলোজের বুক উন্মোচন ছাড়া গত্যন্তর নেই।

Read More ...

Friday, March 28, 2008

সৃষ্টির সূত্র: গালাপাগস দ্বীপ

সুশান্ত বর্মন

সারা পৃথিবীর দুই ভাগ জল ও এক ভাগ স্থলএই বিশাল জলরাশির বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য দ্বীপ খুঁজে পাওয়া যায়এগুলোর কোনটি রাজনৈতিকভাবে আবার কোনটা অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণকিন্তু কিছু কিছু দ্বী বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে যে অবদান রেখে গেছে তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয়গালাপাগস তেমনি একটি দ্বীপপুঞ্জএই দ্বীপমালায় প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক চার্লস ডারউইন কয়েকমাস থেকেছেনবিস্ময়কর ও রহস্যময় অসংখ্য পশুপাখিতে পরিপূর্ণ দ্বীপগুলোতে ভ্রমণ করে ডারউইন প্রাণী সৃষ্টি ও বিকাশের সূত্রটি খুঁজে পেয়েছেনএই দ্বীপের বিভিন্নরকম প্রাণী নিজেদের নানারকম বৈচিত্র্য ডারউইনের কাছে তুলে ধরে প্রমাণ করেছে মানুষ পতনের ফল ন; উৎকর্ষের ফল

অদ্ভূত ধরণের প্রাণী দিয়ে পূর্ণ এই দ্বীপমালার কথা প্রথম জানা যায় ১৫৩৫ সালেফ্রে টমাস নামে একজন খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারকারী জাহাজে করে পেরু যাচ্ছিলেনপথে বেশ কিছু দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি দ্বীপপুঞ্জের দেখা পেলেনসেখানে তিনি অনেক অদ্ভূত অদ্ভূত গাছপালা ও প্রাণী দেখলেনতিনি দেখলেন এই দ্বীপমালার প্রাণীজগতের বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের প্রাণীদের চাইতে একেবারে আলাদা রকমতিনি সেখানে বিদঘুটে ডিজাইনের গিরগিটি, বিশাল বিশাল কচ্ছপ, বিভিন্ন ধরণের ঠোঁটওয়ালা একই জাতের পাখি, কাঁটাওয়ালা নাশপাতি গাছ ইত্যাদি দেখতে পেলেনতাঁর সহ জাহাজের সবার দৃষ্টি কেড়েছিলো কচ্ছপগুলোএগুলোর সাইজ এত বিরাট যে কয়েকজন মানুষকে পিঠে নিয়ে চলাফেরা করা এদের কাছে কোন ব্যপার নয়পরম আনন্দে তারা মাংসের জন্য জাহাজ ভর্তি করে কচ্ছপ নিয়ে নিলোদ্বীপগুলোর নাম রাখলেন গালাপাগসস্পানিস ভাষায় গালাপাগস অর্থ কচ্ছপপ্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপটিতে এমন কিছু বিচিত্র প্রাণীর নমুনা রয়েছে যা পৃথিবীর আর অন্য কোথাও নেইঅন্য কোন দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথেও গালাপাগস দ্বীপমালার পরিবেশ মেলেনাসারা বছর প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা এই দ্বীপে থেকে গবেষণা করেনপ্রকৃতি বিজ্ঞানীদের কাছে স্বর্গসদৃশ এই দ্বীপ ৬৫টি ছোট ও ১৩টি প্রধান দ্বীপ নিয়ে গঠিতসবচাইতে বড়টির নাম ইসাবেলাএছাড়াও আছে ফার্নান্দেজ, সান্টিয়াগো, মারচনাপিন্টা, জোনো, ভেসা, পিনজোন ইত্যাদি নামের দ্বীপগালাপাগস দ্বীপে অনেক রকমের পাথর ও জীবাশ্ম (Fossil) পাওয়া গেছেএগুলোর C12 পরীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বোঝা যায় দ্বীপটি গঠিত হয়েছে ৩৫ লক্ষ বছর আগেসমস্ত দ্বীপটি আসলে একটি বড় পাহাড় দিয়ে গঠিতএখানে বেশ কয়েকটি মৃত আগ্নেয়গিরি রয়েছেএই আগ্নেয়গিরিগুলির লাভা উদগীরণের ফলে দ্বীপগুলোর সৃষ্টি হআবহাওয়া প্রায় শুকনোবছরের অনেক সময় খরা থাকেহঠাৎ হঠাৎ সেখানে বৃষ্টি হয়সেখানকার স্পানিস লোকেরা এই হঠাৎ বৃষ্টির নাম দিয়েছে 'এল নিনো'। বৃষ্টির পরপর দ্বীপমালার চিত্র দ্রুত পাল্টে যায়চারিদিক সবুজ ঘাসে ভরে যায়, রুক্ষ্ম পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে কয়েকটি বন্য ফুল ফুটে থাকেপাখিরা ছড়িয়ে পড়ে সারা দ্বীপেদ্বীপমালাটির আবহাওয়া ও ভূমি কিছুটা রুক্ষ্ম হলেও সেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্য ও প্রাণীজ বৈচিত্রের কোন কমতি নেইস্থলভূমিতে দেখা যায় অনেক রকমের পাখিটিয়ে, কাকাতুয়াসহ বিভিন্ন রকমের পাখি; বিশাল সাইজের টিকটিকি জাতীয় প্রাণী ও ছোট ছোট প্রাণী রয়েছে এই দ্বীপটিতেতবে ডাঙ্গার তুলনায় গালাপাগস দ্বীপের জলজ প্রাণীরা অধিকতর বৈচিত্র্যময়দ্বীপটি বিষুব অঞ্চলীয় হলেও সেখানে সীল রয়েছে প্রচুরএছাড়া রয়েছে উড়ুক্কু মাছ, বিভিন্ন ধরণের হাঙর, কয়েক রকমের তিমি, বিভিন্ন জাতের অসংখ্য দুষ্প্রাপ্য মাছগালাপাগস দ্বীপের সবচাইতে রাজকীয় প্রাণীটি হলো কচ্ছপগালাপাগস দ্বীপমালার প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যায় বিশাল বিশাল সব কচ্ছপ পাশ দিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ জাহাজযাত্রীরা এই এলাকায় এসে প্রাচীনকাল থেকে এই কিছুকাল আগে পর্যন্ত কচ্ছপ শিকার করে নিয়ে যেতোএছাড়াও এই দ্বীপটিতে রয়েছে বিশাল বিশাল আকৃতির শুকরসাধারণ শুকরের আকার যেখানে সর্বোচ্চ ৫/৬ মন হয় সেখানে এই শুকরগুলোর ওজন হয় ৮/১০ মনখাদ্য হিসেবে কচ্ছপের পাশাপাশি শুকরগুলির চাহিদা এখনও খুব রয়েছে

কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করার পর পায় ৫০/৬০ বছর পরে গালাপাগস দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কার হয়তারপর থেকেই লোভী ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি পড়লো এই দ্বীপগুলোর উপরতারা দলে দলে এখানে এসে নির্বিচারে তিমি, সীল, কচ্ছপ, শুকর শিকার করতে লাগলোফলে কয়েকশ বছরের মধ্যেই দ্বীপটির পরিবেশের ভারসাম্য অনেকটা বিনষ্ট হয়ে গেলো১৮ শতকেই মূলত এ অঞ্চলে প্রচুর তিমি ও সিল নিধন করা হয়েছেদক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর এই তিনশ বর্গকিলোমিটার জায়গা ব্যপী বিস্তৃত গালাপাগস দ্বীপপুঞ্জের মালিকইকুয়েডর সরকার মূল ভূখন্ড থেকে ১ হাজার কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপমালাকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে বিষ্ময়কর প্রাণীগুলোকে সংরক্ষণের অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে
Read More ...

Tuesday, March 25, 2008

শুঁয়াপোকাদের স্মৃতিশক্তি


সুশান্ত বর্মন

হামাগুড়ি দেয়া কিলবিলে শুঁয়াপোকা (Caterpillar) থেকে পূর্ণবয়স্ক বর্ণিল ডানাওয়ালা প্রজাপতিতে রূপান্তরের বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর! শুধুমাত্র শারীরিক রূপান্তর নয়। এর মাধ্যমে জীবন ব্যবস্থা, মানসিকতা বা স্মরণশক্তির কি পরিবর্তন ঘটে তা জানার আগ্রহ বিজ্ঞানীদের অনেকদিনের। শৈশবে একটি শুয়াপোকা কি কিছু শিখতে পারে? যা শেখে তা কি সে পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত মনে রাখতে পারে? এমনি নানা প্রশ্ন বিজ্ঞানীদেরকে সবসময় আলোড়িত করত। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এটা আবিষ্কার করেছেন যে প্রজাপতি বা মথ শৈশবে যা শেখে তা বড় হওয়ার পর মনে করতে পারে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের (Georgetown University) গবেষকরা বিভিন্ন গবেষণার পর এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে হালকা বিদ্যুৎ শক দেয়ার সাথে সাথে কোন একটি বিশেষ দুর্গন্ধকে এড়িয়ে যাওয়াটা তামাকে হর্ণওয়ার্ম শুঁয়াপোকাকে শেখানো যায়। প্রশিক্ষিত শুঁয়াপোকা যখন পিউপা (Pupa) থেকে মথ (Moth) হিসেবে বের হয়, তখন তারা ঐ বিশেষ দুর্গন্ধকে এড়িয়ে চলে। এটা প্রমাণ করে যে তাদের স্মৃতিশক্তি আছে। তারা তাদের শৈশবের প্রশিক্ষণকে মনে করতে পেরেছে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটাই প্রতম যেখানে পতঙ্গের স্মৃতিশক্তি নিয়ে একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। এই গবেষণার মাধ্যমে আরও একটি নতুন প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। পতঙ্গের রূপান্তরকালীন সময়ে তার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ কিভাবে হয় তা এতদিন বিজ্ঞানীদের নিকট অজানা ছিল। আলোচ্য গবেষণাটি এই বিশেষ দিকটির দিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টিপাত করেছে।

লার্ভা (Larva) বা শুঁয়াপোকার পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে রূপান্তর (Metamorphosis) হওয়ার বিষয়ে এতদিন বিজ্ঞানীরা তেমন কিছু জানতেন না। ধারণা করা হত যে শুঁয়াপোকারা পিউপা অবস্থায় সম্পূর্ণ তরল হয়ে যায় এবং এই তরলাবস্থা থেকে ডানাওয়ালা বর্ণিল শরীরটি পুনর্গঠিত হয়। নতুন গবেষণা এ মজার ধারণাটির প্রতি বেশ ভাল রকমের একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। শুয়াপোকা অবস্থার অভিজ্ঞতা পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতির স্মৃতিতে থেকে যায় - এটা সত্যিই বিস্ময়কর। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক আচরণগত পরিবেশবিদ সহযোগী অধ্যাপক মার্থা ওয়েজ প্রসঙ্গক্রমে বলেন - পুরনো ধারণা এখন পরিণত হয়েছে হাস্যকর আলোচনায়।

শৈশবে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা পতঙ্গের স্মৃতিতে কতদিন স্থায়ী হয় এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের যথেষ্ঠ কৌতুহল রয়েছে। "হয়তো ১০০ বৎসর" -বলেন সহযোগী গবেষক ডাউ ব্লাকিস্টন। তিনি আরও বলেন -পিউপার ভিতরে থাকাকালীন সময়ে পতঙ্গের মগজ এবং স্নায়ুতন্ত্র নতুনভাবে সন্নিবেশিত হয়। কিন্তু ঠিক কিভাবে স্মৃতির ছাপ থেকে যায় এটা এখনও পরিষ্কার নয়। পিউপার অভ্যন্তরে রূপান্তরকালীন সময়ে তাদের স্মৃতি কিভাবে অমোচনীয় থেকে যায় তা এখনও রহস্যজনক।

গবেষকরা দেখেছেন যে প্রাথমিক স্তরের শুয়াপোকাদের স্মৃতিশক্তি কম কার্যকর। ডিম থেকে বের হওয়ার পর ১-২ সপ্তাহ বয়সী শুয়াপোকাদের স্মৃতিধারণ ক্ষমতা কম। বিজ্ঞানীদের আরোপিত উদ্দীপনায় তাদের মগজ কম সাড়া দিয়েছে। কিন্তু ৩ সপ্তাহের বেশী বয়সী শুয়াপোকারা বেশ দ্রুত শেখে। লব্ধ জ্ঞান তাদেরই বেশী মনে থাকে। পিউপাতে পরিণত হবার আগের সময়গুলোতে শুয়াপোকাদের মগজের স্মৃতি ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। তারা সবকিছু দ্রুত শিখে ফেলে। এই সময়ে জানা অভিজ্ঞতা পরিণত বয়স পর্যন্ত টিকে থাকে। পিউপা অবস্থায় থাকাকালীন সময়ে এর কোন পরিবর্তন হয় না। পুরনো স্মৃতিকে সহজে তারা পুনরুদ্ধার করতে পারে।

শৈশবের স্মৃতিকে পতঙ্গদের এই পুনরুদ্ধার করতে পারার মধ্যে পরিবেশগত এবং বিবর্তনবাদের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর আছে। শুঁয়াপোকারা তাদের শৈশবে যে প্রজাতির গাছে জন্মেছিল, যার পাতা খেয়ে তারা পুষ্ট হয়েছিল, বড় হয়ে প্রজাপতি বা মথে পরিণত হওয়ার পরও তারা তা ভোলে না। খাদ্যের খোঁজে বিভিন্ন গাছে ঘুরে বেড়ালেও স্ত্রীপতঙ্গ ডিম পাড়ার জন্য শৈশবের পরিচিত প্রজাতির গাছে ফিরে আসে। এই আচরণ বিশ্লেষণ করে পতঙ্গের বিচরণক্ষেত্র, অভ্যাস এবং নতুন প্রজাতির বিকাশসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

সাধারণত: সামাজিক পতঙ্গদের শিক্ষা, স্মৃতিশক্তি ও আচরণ বিষয়ে গবেষণা করা হয়। যেমন- মৌমাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি। মার্থ ওয়েজ এর দলের গবেষণা মূলত নি:সঙ্গ বা একাকী পতঙ্গ নিয়ে। যেমন- প্রজাপতি, বোলতা, লম্বা পা ওয়ালা ম্যান্টিড ইত্যাদি। কারণ এইসব অসামাজিক পতঙ্গদের আচরণ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের জানাশোনার পরিধি খুবই কম।

ওয়েজ ও তার সহযোগী গবেষকগণ এইসব স্বনির্ভর, বহুমুখী কর্মতৎপর পোকারা চারপাশের পরিবেশের সাথে জীবনযাপনে কিভাবে দক্ষ হয়ে ওঠে সে বিষয়ে আরও নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে যাবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

Read More ...