Showing posts with label ফসিল. Show all posts
Showing posts with label ফসিল. Show all posts

Monday, January 12, 2009

২০০৮ সালের সেরা ১০টি বৈজ্ঞানিক ঘটনা -০২

নতুন জগৎ:
বিজ্ঞানীরা সবসময় এমন ধারণা করতেন যে সূর্য ছাড়াও এমন নক্ষত্র আছে যার চারপাশে পৃথিবীর মতো গ্রহ নিয়মিত আবর্তিত হয়। কিন্তু ১৯৯৫ সালের আগে এরকম বহির্জাগতিক গ্রহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই বৎসরে এরকম কিছু সৌরজগতের দেখা মেলে। ২০০৮ সালের জুন মাসে মাইকেল মেয়র (Michel Mayor) ৪৫টি সৌরজগত খুঁজে পান, এর কয়েকটি পৃথিবীর চাইতে মাত্র ৪.২গুণ বড়। কিন্তু সেগুলোতে প্রাণ বিকাশের উপযোগী কোন পরিবেশ রয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখার মতো শক্তিশালী যন্ত্র মেয়রের ছিলনা। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মহাকাশবিজ্ঞানীদের দুটো দল চারটি বহির্জাগতিক পৃথিবীর দেখা পান। এই প্রথম এ জাতীয় ভিনগ্রহের স্পষ্ট ও আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে তোলা ছবি পাওয়া গেল।

অদৃশ্য হয়ে যাওয়া:
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী বার্কলে (Berkeley) এবং কালিফ (Calif) ঘোষণা করেন যে, তারা এমন পোষাক আবিষ্কার করতে পেরেছেন যা পরিধান করে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া সম্ভব । বিষয়টা আসলে পদার্থ ও আলোকবিজ্ঞানের এক জটিল সংমিশ্রণ। বিজ্ঞানীরা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তারের একটি জালিকা এলুমিনিয়ামের টিউবের ভিতরে স্থাপন করে একটি পাতলা কাপড়ের মতো বস্তু উদ্ভাবন করেছেন। এটা কাগজের চাইতে ১০ গুণ বেশি পাতলা। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে তারা এই পদার্থ দিয়ে এমন একটি বহিরাবরণ তৈরি করতে পারবেন, যার মধ্যদিয়ে আলোর স্রোত প্রবাহিত করলে তা কার্যকরীভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই বিষয়টা এখনও পরীক্ষাধীন। খরচও অনেক বেশি। কিন্তু এই দৃশ্যমান জগতে আমরা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারি, এই আবিষ্কারের ফলে একথা বলা আর কঠিন নয়।

সিনোজয়িক পার্ক (Cenozoic Park):
একগুচ্ছ চুল সাধারণত কোন খবরের হেডলাইন হয়না। কিন্তু ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে এমনই একটা ঘটনা ঘটে গেল। জীবরসায়নের অধ্যাপক স্টিভেন স্কাসটার (Stevan Schuster) ঘোষণা করলেন যে তিনি লোমশ ম্যামথের চুল থেকে তার জিনোমের ৮০ ভাগ পুনর্গঠন করতে পেরেছেন। এটা শুধুমাত্র তিন বিলিয়ন ডিএনএ'র ধারাবাহিকতাকে একত্রিত করা নয়, এই ঘটনাটি ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবের অন্তর্গত উপাদানকে বুঝতে সহায়তা করবে। তবে এখনি জুরাসিক পার্কের মতো লোমশ ম্যামথের কোন দল তৈরি করা সম্ভব হবে না। কিন্তু এই আবিষ্কার যে সেই সম্ভাবনাকে উস্কে দেয়নি, তা বলা কঠিন।

বিজ্ঞান পড়ুয়ার পরিসংখ্যান:
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষিত মানুষের পরিমাণ ১৯৭৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে দ্বিগুণ অর্থাৎ ১৭% হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য জানতে সম্প্রতি মিসিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জনৈক অধ্যাপক এক জরীপ চালান। এতে দেখা যায় বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কিঞ্চিত বেড়েছে। মাত্র ২৫%। যে জাতি উড়োজাহাজ, বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেছে, যারা চাঁদে পা রেখেছে তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষিত মানুষের এই পরিমাণ মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়।

প্রথম পরিবার:
মধ্য জার্মানিতে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো পরিবারের ফসিল পাওয়া গেছে। ৪৬০০ বৎসরের পুরনো এই পরিবারটি কোন আক্রমণের শিকার হয়ে মারা গেছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন। পাথর যুগের এই পরিবারটির প্রত্যেক সদস্যের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে মেরুদণ্ড ক্ষতবিক্ষত ছিল। পরিবারের দুইটি পুরুষ শিশুর একটি ৮-৯ বৎসর বয়স ও অন্যটি ৪-৫ বৎসর বয়সের ছিল। হয়তো এই পরিবারটিই সবচাইতে পুরনো পরিবার নয়। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফসিলের মধ্যে এটিই যে পুরনো পরিবারের এতে কোন সন্দেহ নাই।

সূত্র: টাইম
Read More ...

Wednesday, November 26, 2008

ডিম আগে না মুরগি আগে?


ডিম এবং বাসা বামপাশের 'Oviraptor' অথবা ডানপাশের 'A relative of Velociraptor' যে কোন এক প্রজাতির হতে পারে।

ডিম আগে না মুরগি আগে এই বিতর্কটা বেশ পুরনো। অনেক আগে থেকে বিজ্ঞানীমহলে এই বিষয়টা একটা রহস্যময় বিষয় হয়েছিল। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে এর একটা সমাধান খুঁজে পাওয়া গেছে। বিরল প্রজাতির এক প্রকার ডাইনোসরের বাসার জীবাস্ম পাওয়া গেছে যা গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা আশার বাণী শুনিয়েছেন। ৭৭ মিলিয়ন বৎসর আগের এই বাসাটিতে পাঁচটি ডিম ছিল। মা ডাইনোসর এই ডিমগুলোতে তা দেয়ার সময় হঠাৎ করে জলের উচ্চতা বেড়ে গিয়েছিল। ফলে চারপাশ প্লাবিত হয়ে যায়। মা ডাইনোসর বাধ্য হয় বাসা ছেড়ে চলে যেতে। ডিমসহ এই সম্পূর্ণ বাসাটা বালির নিচে এতদিন চাপা পড়ে ছিল। লম্বায় এই বাসা প্রায় ১.৫ ফিট (আধা মিটার) এবং ওজনে ১১০ পাউন্ড (৫০ কেজি)। বিজ্ঞানীরা এখন বেশ জোর গলায় বলছেন মুরগী নয় প্রথমে ডিম এসেছে। আলবার্তাতে অবস্থিত ক্যালিগারির বিশ্ববিদ্যালয়ের Paleontologist ডার্টা জেলিনস্কি (Darta Zelenitsky) বলেন এটা এখন পরিষ্কার যে মুরগি নাকি ডিম আগে এসেছে। মুরগী বা পাখিজাতীয় প্রাণীদের আগমনের বহু পূর্বেই ডাইনোসররা ডিম পাড়তে শুরু করেছিল। অতএব মুরগি নয় ডিম আগে এসেছে একথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে।

বালুঢাকা নদীর তীরে অবস্থিত এই বাসার ফসিলটি ১৯৯০ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল। ক্যালিগারির আলবার্তাতে অবস্থিত কানাডা ফসিল একাডেমিতে এতদিন রাখা ছিল। ২০০৭ সালে বাসার ফসিলটি Royal Tyrrell Museum of Paleontology in Albertaতে এনে রাখা হয়।

হাঁসের মতো চঞ্চুযুক্ত এক বিরল ধরণের ডাইনোসর এই ধরণের বাসা বানাতো। জেলিনস্কি প্রথম এই বাসাটিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বুঝতে পারেন যে এটা এক ধরণের ছোট সাইজের মাংশাসী ডাইনোসরের।
ফসিল হয়ে যাওয়া ডিমের ছাপ এবং ভেঙে যাওয়া খোসার টুকরো
উত্তর আমেরিকাতে ডাইনোসরের বাসা খুব কম আবিষ্কৃত হয়েছে। এর আগে যেগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো ছিল Troodon নামক আর এক জাতের ডাইনোসরের। কিন্তু এই বাসাটি যে ঠিক কোন প্রজাতির ডাইনোসরের তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে সেটা যে ছোট আকৃতির ডাইনোসর এবং এই জাত থেকেই যে জুরাসিক যুগের সময়ে পাখির উদ্ভব হয়েছে তা নিশ্চিত।

বাসাটিকে পর্যবেক্ষণ করে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
* বাসাটি একবারে ১২টি ডিম তা দেয়ার মতো করে তৈরি।
* মাঝখানে কিছুটা ঢালু এই বাসাতে ডিমগুলো একমুখি করে সাজানো ছিল।
* ডিমগুলো প্রায় ৫ ইঞ্চি (১২ সে.মি.) লম্বা।
* মা ডাইনোসর বাসার উচ্চ অংশে ডিম পারতো। ডিমগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ে সোজা হতো।
* মা ডাইনোসর একবারে দুইটি ডিম পারতো। একবারে একাধিক ডিম পাড়ার ঘটনা কুমিরদের মধ্যেও দেখা যায়। কোন কোন পাখিও এরকম করে, কিন্তু বেশিরভাগ পাখি একবারে একটা ডিম পাড়ে। কুমিররা এই ডাইনোসরগুলোর অধিকতর নিকটতম প্রজাতি।

সূত্র:
* লাইভ সাইন্স
* ইয়াহু নিউজ
Read More ...

Friday, July 25, 2008

বড়পাসোরা টেগরী

কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট এর সংগ্রহশালায় রক্ষিত ৪৭ ফুট দীর্ঘ ভারতীয় ডাইনোসর 'বড়পাসোরা টেগরী' এর জীবাশ্ম।
ছবি: শ্রী মনোজিৎ চন্দ্র
Read More ...

Sunday, June 29, 2008

নিয়ান্ডারথাল'রা বুদ্ধিমান ছিল

১৯০০ সালে ইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্সের এই খননক্ষেত্রটি আবিষ্কার হয়েছিল। সেখান থেকে সম্প্রতি কিছু অসাধারণ দ্রব্য আবিষ্কার করা হয়েছে। একটি নতুন সৌধ তৈরি করার জন্য ভিত্তি খুঁড়তে গিয়ে মাটির গভীরে একটা ফাটল চোখে পড়ে। এই ফাটলের ভিতর থেকে সযত্নে সাজিয়ে রাখা ২৩০০টি পাথরের অস্ত্র আবিষ্কৃত হয়।

ইউসিএল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ম্যাথু পোপ মনে করেন এই অস্ত্রগুলো কারিগরি দিক থেকে পূর্বে প্রাপ্ত অস্ত্রগুলোর চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক। তিনি আরও বলেন - বৃটেনের আদিম মানব প্রজাতির তৈরি আর কোন যন্ত্র এত সুচারু ও কর্মক্ষম ছিল না। উত্তর ইউরোপে অনুপ্রবেশ করা কোন নিয়ান্ডারথাল মানবগোষ্ঠীর শেষ শিকারী দল এগুলো ফেলে রেখে গেছে এমন ভাবতে পেরে আমি সত্যিই উত্তেজিত। এই যন্ত্রগুলো দেখে তাদের উদ্ভাবকদের দক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়। ভূগোল ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দ্রব্যাদির উপর যে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল, তা তারা বুঝিয়ে দিয়ে গেছে।

ইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্সের (West Sussex) পুলবরো (Pulborogh) এলাকায় প্রাপ্ত এই পাথুরে যন্ত্রগুলোর বয়স প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৪২,০০০ বৎসর। একই খননএলাকায় প্রাপ্ত অন্যান্য অস্ত্রগুলোর চেয়ে এই অস্ত্রগুলোর কার্যক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। নিয়ান্ডারথালদের সম্পর্কে আগে যা ধারণা করা হয়েছিল, তার চাইতে বেশি অগ্রসর ও বুদ্ধিমান যে তাদের ছিল, সম্প্রতি প্রাপ্ত অস্ত্রগুলোর তার প্রমাণ দিয়েছে। যন্ত্রের উদ্ভাবন, তৈরি্ও ব্যবহার কৌশলে তারা পূর্বধারণার চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ ছিল।

যন্ত্রগুলো নিয়ে গবেষণারত ড. জ্যাকব বলেন -শিকার করার জন্য নির্ভরযোগ্য ও কার্যকরী অস্ত্র তৈরি করা কোন সহজ কাজ নয়। নিয়ান্ডারথালদের আরও পুরো অস্ত্র আবিষ্কার হয়েছে। সেগুলো ছিল লম্বা, সোজা ও কম ধারালো। তৈরি পদ্ধতির ছাপ সেগুলোতে স্পষ্ট বোঝা যায়। কিন্তু নবআবিষ্কৃত অস্ত্রগুলো ভিন্নরকম। ধারাল কোণগুলো কিছুটা বাঁকা, তৈরি পদ্ধতির ছাপ নেই বললেই চলে। অস্ত্রগুলোর শরীর মসৃণ ও নিখুঁত।

নিয়ান্ডারথালদের অস্ত্রাদি বেশিরভাগ সময়ে বেলে পাথরের ফাটলের মধ্যে পাওয়া গেছে। পাহাড় বা মাটির গভীরের গুহায় নিয়ান্ডারথালরা বহুকাল বাস করেছিল। সেই সময়ে তারা কোন উদ্দেশ্যে অস্ত্রগুলো সংরক্ষণ করার জন্য একের পর এক সাবধানে সাজিয়ে রেখেছিল। এ থেকেও বোঝা যায়, নিয়ান্ডারথালরা যতোটা ভাবা হয়েছিল, ততোটা বোকা ছিল না। প্রাসঙ্গিক তথ্য এই যে, এই নিয়ান্ডারথাল মানুষদের মনে সর্বপ্রথম জন্ম, মৃত্যু, জীবন, প্রকৃতি তথা দর্শনভাবনার উদ্ভব হয়েছিল।
Read More ...

Friday, June 27, 2008

আদিমতম চতুষ্পদী ভেন্তাস্টেগা

আজকের সমকাল পত্রিকায় একটি খবর পাওয়া গেল। প্রাণীবিজ্ঞানের ইতিহাসে আদিমতম প্রাণী নিয়ে আগ্রহ সবসময়ই ছিল। আজকের খবরটা আদিমতম চতুষ্পদী প্রাণীটিকে ঘিরে। এতদিন সংশয় ছিল। কিন্তু এই নতুন খবরে নির্দিষ্টভাবে জানা গেছে আদিমতম চতুষ্পদীর সঠিক পরিচয়। বিস্তারিত পত্রিকা থেকেই তুলে দিলাম।


আদিমতম চতুষ্পদী প্রাণী ভেন্তাস্টেগা (Ventastega curonica) র ছবি নিয়েছি এখান থেকে। ছবি একেছেন 'ফিলিপ রেনে'। ছবির নিচে বাম পাশে দুটো Bothriolepis কে দেখা যাচ্ছে।

সমকাল ডেস্ক
আদিমতম চতুষ্পদীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। প্রাণীটির করোটি ও অন্যান্য নিয়ামক নিদর্শন উদ্ধার করেছেন একদল গবেষক। তারা মনে করছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে প্রাচীন চার পা-ওয়ালা প্রাণী। এ অনুসন্ধান মাছ থেকে ভূমিতে বিচরণশীল অগ্রসর প্রাণের বিকাশের বিবর্তনী প্রক্রিয়াকে বুঝতে সহায়তা করবে। জীবাশ্মটি ৩৬ কোটি ৫০ লাখ বছরের পুরনো। খবর এপি অনলাইনের।

ভেন্টাস্টেগা কুরোনিকা নামের প্রাণীটির করোটি, স্কন্ধ এবং শ্রোণির অংশবিশেষ সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র লাতভিয়ায় পাওয়া গেছে। এটি জলচর প্রাণী। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারের বৃহস্পতিবারের সংখ্যায় প্রকাশিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে গবেষকরা তার কথা জানিয়েছেন।

গবেষকরা বলেন, ভেন্তাস্টেগা সম্ভবত তার ধারায় বিবর্তনের শেষ ধাপ; তারপরও একে খুঁজে পাওয়ায় মাছ থেকে চতুষ্পদীতে বিবর্তনের প্রক্রিয়াকে ভালো করে বোঝা যাবে। জলচর চতুষ্পদীরাই পরে উভচর, পাখি এবং স্তন্যপায়ীতে বিবর্তিত হয়েছে।

ভেন্তাস্টেগার চেয়েও পুরনো একটি প্রাণীর ফসিল এর আগে পাওয়া গেছে। তবে সেটি যত না চতুষ্পদী তার চেয়ে বেশি মাছ। ভেন্তাস্টেগা তার উল্টো, অর্থাৎ এটি যত না মাছ তার চেয়ে বেশি চতুষ্পদী। হিংস্র চেহারার ভেন্টাস্টেগা বাস করত অগভীর ঈষৎ নোনা পানিতে। এর দৈর্ঘ্য তিন থেকে চার ফুট। মাছ খেয়ে প্রাণ ধারণ করত। দূর থেকে দেখলে এটিকে ছোট্ট কুমিরের মতো দেখায়। তবে কাছ থেকে দেখলে এর পিঠে একটা পাখনার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান নিবন্ধক সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনী জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক পের আহলবার্গ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই বালুময় সৈকতে উঠে আসতে পারত। সাধারণত এটি কম স্রোতের খাড়ি এলাকায় ঘুরাফেরা করত এবং খাড়িতে আটকে পড়া মাছ শিকার করত।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পৃথিবীতে ডাইনোসরের আবির্ভাবের কমপক্ষে দশ কোটি বছর আগে ভেন্টাস্টেগা আবির্ভাব হয়েছিল।

আহলবার্গ জানান, চতুষ্পদীরা সরাসরি ভেন্টাস্টেগার উত্তর-পুরুষ, একথা বিজ্ঞানীরা মনে করেন না। তবে এটি চতুষ্পদী বর্গেরই সদস্য। এটি চতুষ্পদী বর্গের বিক্ষিপ্ত একটি শাখা, যা কোনো উত্তরসূরি না রেখেই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। সে সময় অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের আরো অনেক প্রাণী ছিল। বিবর্তনের ধারায় এরা মধ্য-পর্যায়ী প্রাণী। ভেন্টাস্টেগা বিবর্তনী জীববিজ্ঞানীদের প্রভূত উপকারে আসবে।

পুরো জীবাশ্মটি পাওয়া গেলে আরো ভালো হতো। আহলবার্গের দল ভেন্টাস্টেগার পা এবং বুড়ো আঙুল খুঁজে পায়নি। তবে তারা সার্বিক বিবেচনায় এ সিন্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এটি চতুষ্পদীই ছিল। বিজ্ঞানীরা এখন একটা বিষয়ে ভাবিত, কেন মাছের দেহে পা গজানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো?
--------
সম্পূর্ণ ভেন্টাস্টেগার এই কল্পিত ছবিটি সংগ্রহ করেছি এখান থেকে
Read More ...

Sunday, May 11, 2008

সাঁতারু ডাইনোসর

বিভিন্ন সিনেমা ও বইপত্র ঘেঁটে নানারকমের ডাইনোসরকে আমরা চিনে ফেলেছি। এর মধ্যে সাঁতারু ডাইনোসর এর নাম এতদিন ছিল না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা ওয়াইওমিং (Wyoming) এ এক নতুন ধরণের ডাইনোসরের পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ বৎসর আগে এরা সানন্দে সাঁতার কেটে বেড়াত।

ধারণা করা হয় এদের উচ্চতা ৬ ফুট ছিল। বর্তমানকালের উটপাখির সমান। এরা ছিল মাংসাশী। বেশিরভাগ সময় নদী বা সাগরের মাছ খেয়েই জীবনধারণ করত।

এর আগে বিজ্ঞানীরা সাঁতারু ডাইনোসরের উপস্থিতির কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সে বিষয়ে গবেষণা বেশিদূর এগোয়নি। এজন্য এদের কোন নামকরন করা হয়নি।

এই সাঁতারু ডাইনোসরদের মধ্যে পাখীর প্রাথমিক কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মনে করা হয় পাখি যে প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে এরাও সেই একই প্রজাতির অংশ। দানবীয় মাংসাশী ডাইনোসর টি-রেক্স (টাইরানোসরাস রেক্স) থেকে এদের বৈশিষ্ট্য একেবারে অন্যরকম।

এদের পায়ের ছাপ যেখানে পাওয়া গিয়েছে সেখানে আরও নানারকম মধ্য জুরাসিক যুগের প্রাণীর পায়ের ছাপ ছিল। এ থেকে বোঝা যায় এরা একা একা বাস করত না। সামাজিক জীব ছিল।


Read More ...

Sunday, April 13, 2008

সেলুলোজে প্রাণ

ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এখান থেকে

এতদিন পর্যন্ত মানুষের খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো জৈবিক পদার্থ ছিল এক ধরণের প্রোটিন। প্রায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ বৎসর আগের এই উপাদানটিকে সবচাইতে বয়স্ক প্রাণের উদাহরণ বলে মনে করা হত। এই প্রোটিন পাওয়া গিয়েছিল ভয়ংকর হিংস্র ডাইনোসর টাইরানোসরাক্স রেক্স ডাইনোসরের ফসিলে। কিন্তু এর চেয়েও পুরনো জৈবিক নমুনা পেয়েছেন নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সেললয়েজের এই সুক্ষ্ম আঁশগুলি ২৫৩ লক্ষ বছরেরও পুরনো। এগুলো পাওয়া গেছে। নিউ মেক্সিকো মরুভূমির এক প্রাচীন লবণ খনি থেকে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আণবিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত বর্জ্যপদার্থগুলো ফেলে দেয়া হয়। মাটির নীচে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে আণবিক বর্জ্যকে পুতে ফেলা হয়। প্রাগৈতিহাসিক এই সেলুলোজ Cyanobacteria দিয়ে তৈরি। এই নীলাভ সবুজ শৈবাল পৃথিবীর সাগর-স্থলের অনেক জায়গায় এখনও পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় এরা পৃথিবীতে ২.৮ বিলিয়ন বছর থেকে আছে।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদেরকে একটি ভিন্ন সম্ভাবনার আশা দিয়েছে। নাসার ওডেসি নামক মহাকাশ যান মঙ্গল গ্রহে প্রচুর লবনের সন্ধান দিয়েছে। এই আবিষ্কারকে মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা খুঁজে পাবার প্রত্যাশা বাতিল করে দিতে পারছেন না। সেলুলোজের আঁশগুলোর আবিষ্কারক ড. গ্রিফিথ বরেন - মঙ্গলগ্রহে প্রাণের প্রমাণ খুঁজতে হলে সেলুলোজের মধ্যে খুঁজতে হবে। ব্যাকটেরিয়া বা গাছপালা খুঁজে লাভ নেই। লবণের স্তুপের মধ্যে সেলুলোজ খুঁজতে হবে। তাহলে যদি প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেলেও যেতে পারে। ডিএনএ'র চাইতে সেলুলোজ অনেক বেশি টেকসই। বাহ্যিক বিভিন্ন অনুঘটক দ্বারা সহজে প্রভাবিত হয় না। রেডিয়েশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা ডিএনএ'র চাইতে অনেক বেশি। মহাকাশের বিরূপ আবহাওয়াতেও যদি এরকম দৃঢ়তা বজায় থাকে তাহলে সেলুলোজ এর মধ্যেই প্রাণের চিহ্ন পাওয়া যাবে।

গ্রিফিত এই লবণের নমুনা মাটির ২০০০ ফুট নিচ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তরল লবণ ও কেলাসিত লবণের কণাগুলো যখন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে তিনি পরীক্ষা করছিলেন তখন বিষয়টি ধরা পরে। তারা অনেক সেলুলোজের আঁশ অটুট অবস্থায় খুজে পান। সেলুলোজের আঁশগুলোর ব্যাস ৫ ন্যানোমিটার। অসংখ্য আঁশ পরস্পরকে জড়িয়ে জট পাকিয়ে আছে। কোন কোনটা দড়ির মত কোনটা আবার মাদুরের মত। গ্রিফিত বলেন- সময়ের দাগ সেলুলোজগুলো গ্রহণ করেনি। ঠিক টাটকা সেলুলোজের মতো ছিল সজীব। এটা দেখতে সেলুলোজের মত, আচরণও করছিল সেলুলোজের মত। বর্তমানকালের সেলুলোজের মত একই এনজাইম দিয়ে তৈরি। তিনি আরও বলেন -ওই লবণের মধ্যে আমরা কিছু ডিএনএ খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু পরিমাণে ছিল অনেক কম।

মহাকাশ গবেষণায় মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছে। মানুষ বহু আগে থেকে সৌরজগতের এই লাল গ্রহটিকে চিনতো। তার সম্পর্কে বিভিন্নরকম কৌতুহল এই আধুনিক যুগে এসেও মেটেনি। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী মঙ্গলগ্রহে পাওয়া লবণগুলো ৩.৫ থেকে ৩.৯ বিলিয়ন বছর আগের। স্বভাবগতভাবে লবণের খনি সবসময়ই জলের উপস্থিতির কথা বলে। সে হিসেবে যখন জল ছিল তখন সেখানে নিশ্চয় প্রাণের উপস্থিতিও ছিল। গ্রিফিনের মতে- সবচেয়ে প্রাচীন প্রাণ বলতে আসলে এক ধরণের গ্লুকোজকে (Polymerizing Glucose) বোঝানো হয়। জীবন তখনও কার্বন অবস্থায় ছিল। সেলুলোজের অন্তরালে ছিল তাদের আশ্রয়। ব্যাকটেরিয়া সেলুলজকে নিজেদের বাড়ির মত মনে করে। তার চারপাশ ঘিরে থাকে। গাছের কাঠামোর প্রধান উপাদান হল সেলুলোজ। কীটপতঙ্গ নিজেদের সেলুলোজের অবয়ব কিছুটা হলেও পাল্টাতে পারে। অর্থাৎ সেলুলোজ প্রাণের অন্যতম একটি উপাদান। আর তাই কোথাও তা সে মঙ্গলগ্রহ হোক আর মহাবিশ্বের যেকোন জায়গাতেই হোক না কেন গ্রিফিথ মনে করেন প্রাণ খুঁজতে হলে সেলুলোজের বুক উন্মোচন ছাড়া গত্যন্তর নেই।

Read More ...

Saturday, April 12, 2008

নিওলিথিক যুগের দম্পতি

ইটালীর মন্টোভা শহরের বাহিরে একটি বিল্ডিং এর কাজ চলার সময় শ্রমিকেরা এই কংকাল দৃটি আবিষ্কার করে। ধারণা করা হয় কংকালদুটো ৫০০০ থেকে ৬০০০ বছরের পুরনো। তাদের দাঁত পরীক্ষা করে দেখা গেছে তারা বয়সে তরুণ ছিল। নিওলিথিক যুগের এই দম্পতি পরস্পরকে আলিঙ্গন করে পরপারের পথে যাত্রা করেছে। তারা কেন মারা গেছে তা অবশ্য আবিষ্কার করা যায়নি।
Read More ...

Saturday, March 15, 2008

নরকের শয়তান ব্যাঙ

মাদাগাস্কারে কর্মরত বিজ্ঞানীরা জীবিত ছিল এমন সবচেয়ে বড় ব্যাঙের ফসিলের সন্ধান পেয়েছেন। নিউইয়র্কের স্টোনিব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিওনটোলজিস্ট ডেভিড ক্রুজ এবং তার কলিগ এক যুগ ধরে ফসিলের টুকরোগুলোকে একটু একটু করে উত্তোলন করেছেন। ৭৫ টুকরো জীবাস্মকে একবছর ধরে জোড়া দিয়েছেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যাঙের জীবাস্ম বিশেষজ্ঞ সুজান ইভানস।

তাদের ভাষ্যমতে এই ব্যাঙের বয়স ৭০ মিলিয়ন বছর। বিচ বলের সমান আকার, ১৬ ইঞ্চি( ৪১ সে.মি.) উচু এবং ৪.৫ কি.গ্রা. (১০ পাউন্ড) ওজনের।

এই আবিষ্কার আরও একটি বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছ্ প্রাপ্ত ফসিলটির নিকটতম প্রজাতি পৃথিবীর অর্ধেক দূরত্বে দক্ষিন আমেরিকায় পাওয়া গেছে। আকারে অনেক ছোট, কিন্তু একই রকম বড় চোয়াল এবং একই রকম আক্রমণাত্মক। দক্ষিণ আমেরিকায় প্রাপ্ত বড় মুখের ব্রাঙের নাম সেরাটোফাইরিন। এরা খুবই আগ্রাসী মনোভঙ্গীর, অনেকক্ষণ ধরে এক জায়গায় ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থেকে হঠাৎ করে শিকারের ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ে। এগুলোর চেয়ে দুই তিন গুণ বড় ফসিলটির আগ্রাসন নিশ্চয়ই আরও বেশি ছিল। ধারণা করা হয় তারা শক্ত চোয়াল এবং নিজস্ব সুরক্ষাব্যবস্থার সাহায্যে ডিম থেকে সদ্য বের হওয়া ডাইনোসরের বাচ্চাদের শিকার করত। একজন বিজ্ঞানী মনে বলেন- যখন আমরা আরও কয়েকটি শিংওয়ালা ব্যাঙের প্রজাতি আবিষ্কার করলাম তখন "নরকের শয়তান ব্যাঙ" নামটি যথার্থ বলে মনে হয়েছিল।

Read More ...

Friday, February 22, 2008

দানবীয় স্করপিয়ন (বৃশ্চিক)

২১ নভেম্বর ২০০৭ এ Royal Society Publishing এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা জার্মানীতে একটি প্রাগৈতিহাসিক বৃশ্চিক এর নখ খুজে পেয়েছে। এই ফসিলটি ৩৯০ মিলিয়ন বছর পুরোনো। নখটি লম্বায় মাত্র ৪৬ সে.মি. বা ১৮ ইঞ্চি। এ থেকে জীব বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে সম্পূর্ণ বৃশ্চিকটি লম্বায় ২.৫ মিটার বা ৮ ফুটেরও বেশি লম্বা ছিল।
এ প্রসঙ্গে ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির ড. সিমন ব্রাডি বলেন- "This is an amazing discovery. We have known for some time that the fossil record yields monster millipedes, super-sized scorpions, colossal cockroaches, and jumbo dragonflies, but we never realised, until now, just how big some of these ancient creepy-crawlies were."
এই বৃশ্চিকটি এত বড় কেন হয়েছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে সে সময়ের আবহাওয়ায় অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি থাকার কারণে কোন কোন প্রাণীর আকার বড় হয়ে যেতে পারে।

কম্পিউটারে তৈরিকৃত ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে এই দানবীয় সামুদ্রিক বৃশ্চিকটি আকার ও আয়তনে মানুষের চাইতেও বিশালাকার ছিল।
Read More ...