Showing posts with label জ্যোতির্বিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label জ্যোতির্বিজ্ঞান. Show all posts

Monday, January 12, 2009

২০০৮ সালের সেরা ১০টি বৈজ্ঞানিক ঘটনা -০২

নতুন জগৎ:
বিজ্ঞানীরা সবসময় এমন ধারণা করতেন যে সূর্য ছাড়াও এমন নক্ষত্র আছে যার চারপাশে পৃথিবীর মতো গ্রহ নিয়মিত আবর্তিত হয়। কিন্তু ১৯৯৫ সালের আগে এরকম বহির্জাগতিক গ্রহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই বৎসরে এরকম কিছু সৌরজগতের দেখা মেলে। ২০০৮ সালের জুন মাসে মাইকেল মেয়র (Michel Mayor) ৪৫টি সৌরজগত খুঁজে পান, এর কয়েকটি পৃথিবীর চাইতে মাত্র ৪.২গুণ বড়। কিন্তু সেগুলোতে প্রাণ বিকাশের উপযোগী কোন পরিবেশ রয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখার মতো শক্তিশালী যন্ত্র মেয়রের ছিলনা। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মহাকাশবিজ্ঞানীদের দুটো দল চারটি বহির্জাগতিক পৃথিবীর দেখা পান। এই প্রথম এ জাতীয় ভিনগ্রহের স্পষ্ট ও আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে তোলা ছবি পাওয়া গেল।

অদৃশ্য হয়ে যাওয়া:
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী বার্কলে (Berkeley) এবং কালিফ (Calif) ঘোষণা করেন যে, তারা এমন পোষাক আবিষ্কার করতে পেরেছেন যা পরিধান করে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া সম্ভব । বিষয়টা আসলে পদার্থ ও আলোকবিজ্ঞানের এক জটিল সংমিশ্রণ। বিজ্ঞানীরা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তারের একটি জালিকা এলুমিনিয়ামের টিউবের ভিতরে স্থাপন করে একটি পাতলা কাপড়ের মতো বস্তু উদ্ভাবন করেছেন। এটা কাগজের চাইতে ১০ গুণ বেশি পাতলা। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে তারা এই পদার্থ দিয়ে এমন একটি বহিরাবরণ তৈরি করতে পারবেন, যার মধ্যদিয়ে আলোর স্রোত প্রবাহিত করলে তা কার্যকরীভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই বিষয়টা এখনও পরীক্ষাধীন। খরচও অনেক বেশি। কিন্তু এই দৃশ্যমান জগতে আমরা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারি, এই আবিষ্কারের ফলে একথা বলা আর কঠিন নয়।

সিনোজয়িক পার্ক (Cenozoic Park):
একগুচ্ছ চুল সাধারণত কোন খবরের হেডলাইন হয়না। কিন্তু ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে এমনই একটা ঘটনা ঘটে গেল। জীবরসায়নের অধ্যাপক স্টিভেন স্কাসটার (Stevan Schuster) ঘোষণা করলেন যে তিনি লোমশ ম্যামথের চুল থেকে তার জিনোমের ৮০ ভাগ পুনর্গঠন করতে পেরেছেন। এটা শুধুমাত্র তিন বিলিয়ন ডিএনএ'র ধারাবাহিকতাকে একত্রিত করা নয়, এই ঘটনাটি ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবের অন্তর্গত উপাদানকে বুঝতে সহায়তা করবে। তবে এখনি জুরাসিক পার্কের মতো লোমশ ম্যামথের কোন দল তৈরি করা সম্ভব হবে না। কিন্তু এই আবিষ্কার যে সেই সম্ভাবনাকে উস্কে দেয়নি, তা বলা কঠিন।

বিজ্ঞান পড়ুয়ার পরিসংখ্যান:
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষিত মানুষের পরিমাণ ১৯৭৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে দ্বিগুণ অর্থাৎ ১৭% হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য জানতে সম্প্রতি মিসিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জনৈক অধ্যাপক এক জরীপ চালান। এতে দেখা যায় বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কিঞ্চিত বেড়েছে। মাত্র ২৫%। যে জাতি উড়োজাহাজ, বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেছে, যারা চাঁদে পা রেখেছে তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষিত মানুষের এই পরিমাণ মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়।

প্রথম পরিবার:
মধ্য জার্মানিতে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো পরিবারের ফসিল পাওয়া গেছে। ৪৬০০ বৎসরের পুরনো এই পরিবারটি কোন আক্রমণের শিকার হয়ে মারা গেছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন। পাথর যুগের এই পরিবারটির প্রত্যেক সদস্যের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে মেরুদণ্ড ক্ষতবিক্ষত ছিল। পরিবারের দুইটি পুরুষ শিশুর একটি ৮-৯ বৎসর বয়স ও অন্যটি ৪-৫ বৎসর বয়সের ছিল। হয়তো এই পরিবারটিই সবচাইতে পুরনো পরিবার নয়। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফসিলের মধ্যে এটিই যে পুরনো পরিবারের এতে কোন সন্দেহ নাই।

সূত্র: টাইম
Read More ...

২০০৮ সালের সেরা ১০টি বৈজ্ঞানিক ঘটনা -০১

লার্জ হাড্রন কোলাইডার (Large Hadron Collider. LHC):
সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত এই যন্ত্রটি দিয়ে বিশ্ব সৃষ্টিকালীন সময়ের একটি মুহূর্ত তৈরি করা সম্ভব। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বসৃষ্টিকালীন সময়ের অনেক না জানা প্রশ্নে উত্তর পাওয়া যাবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে এই বিশালাকার মেশিনটি চালু করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় যন্ত্রটি সুন্দরভাবে কাজ করে। সামান্য কিছু ত্রুটির কারণে চালু করার ২ সপ্তাহ পর বন্ধ রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে ২০০৯ সালের জুন মাসের কোন এক সময়ে এই যন্ত্রটিকে আবারো পূর্ণ কার্যক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মঙ্গলের উত্তর মেরু:
ইতিপূর্বে মঙ্গল গ্রহের বিভিন্ন জায়গায় পৃথিবী থেকে পাঠানো যন্ত্র পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু এবারই প্রথম মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুতে একটি নিবিড় গবেষণা চালানো সম্ভব হয়েছে। নাসা'র বিজ্ঞানীরা জীবনের অন্যতম উপাদান জলের খোঁজ করার জন্য মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুকে সবচাইতে উপযুক্ত মনে করেছিলেন। ফিনিক্স নামক এই রোবটটি যদিও জীবনের পক্ষে তেমন কোন প্রমাণ পায়নি। কিন্তু এমন কিছু ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে, যার মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহে জীবনের স্পর্শ ছিল এমন ধারণা করা যেতে পারে। মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুর বিরূপ আবহাওয়ায় ফিনিক্স বেশিদিন কর্মক্ষম থাকতে পারেনি। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে ফিনিক্সের কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়।

জীবনের সৃষ্টি:
যদি জেনেটিক দিক দিয়ে বিচার করা যায়, তাহলে বলতে হবে যে সব প্রাণীই আসলে একই সূত্রে গাঁথা। তা সে বিশালাকার হাতি হোক আর ক্ষুদ্রতর ব্যাকটেরিয়া হোক। ২০০৮ সালে জেনেটিক বিজ্ঞানী ক্রেইগ ভেনটার মানুষের জিনোমের সমস্ত ডিজাইনকে আঁকতে পেরেছেন। প্রাথমিকভাবে ৫৮২০০০টি মূল চিহ্নকে তিনি একত্রিত করেতে পেরেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি জেনেটিক কোডগুলোকে একত্রিত করে একটি ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি করতে চান। ভেনটর নিজেও এ কাজের সফলতা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান, কিন্তু একজন সফটওয়ার ডিজাইনারের উক্তিটি তার বেশ পছন্দের। "যখন তুমি কোড লেখার পদ্ধতিগুলো জানবে, তখন তুমি যেমন খুশি তেমন প্রোগ্রাম লিখতে পারবে"।

চীনের মহাকাশ জয়:

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে প্রথম মিশন পরিচালনা করে ১৯৬২ সালে। চীন মহাকাশে প্রথম মনুষ্যবাহী যান পাঠায় ২০০৩ সালে। দ্বিতীয়বার পাঠায় ২০০৫ সালে। আর তারা তৃতীয়বার মহাকাশ জয় করে ২০০৮ সালে। প্রথম প্রচেষ্টায় তারা একজন মানুষকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল। দ্বিতীয়বার পাঠায় দুইজনকে, আর তৃতীয়বার পাঠালো তিনজন মহাকাশযাত্রীকে। এ যাত্রায় চীনারা মহাকাশে পদাচারণা করে। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে মাত্র ৫ বছরের মাথায় এরকম বিশাল সাফল্য অর্জন করা কম কথা নয়। তারা আশা করছে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠাবে। ইতিমধ্যে তাদের স্থাপন করা কৃত্রিম উপগ্রহটি সফলতার সাথে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে।

ধারণার চাইতে বেশি গরিলা রয়েছে:
বিজ্ঞানীরা যা ভাবতেন, তার চাইতে দ্বিগুণেরও বেশি নিম্নভূমির গরিলা (Lowland Gorilla) কঙ্গোর জঙ্গলে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। Wildlife Conservation Society পরিচালিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ১২৫০০০টিরও বেশি গরিলা রিপাবলিক অব কঙ্গোর গহীন অরণ্যে চুপিসারে দিনানিপাত করছে।

সূত্র: টাইম
Read More ...

Monday, December 1, 2008

রাতের আকাশে এক দুর্লভ ত্রিভুজ

আজ সন্ধ্যায় রাতের আকাশে এক অসাধারণ ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতি ও শুক্রগ্রহ চাঁদের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে এই তিনটি মহাজাগতিক বস্তু এক ত্রিভুজের সৃষ্টি করেছে। প্রস্তুতি ছিল না বলে ছবি তুলতে পারিনি। তাই হাতে একে বোঝানোর চেষ্টা করছি। ডানপাশের ছবিতে দেয়া তিনটি কালো বিন্দু হলো চাদ, শুক্র ও বৃহস্পতি। এই তিনটি মহাজাগতিক উপাদানের এত কাছাকাছি আসার ঘটনা খুব বিরল। প্রায় ৪০-৫০ বৎসর পরপর এরকম মাহেন্দ্রক্ষণ আসে। আজকে যেমন ঘটল। এরপর ২০৫২ সালে এমন ঘটবে।
প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানিয়েছে যে এই ঘটনাটি শুধুমাত্র উত্তর আমেরিকা থেকে দেখা যাবে। কিন্তু আমরা তো বাংলাদেশ থেকেই দেখতে পেলাম। খবরে প্রকাশ:
সৌরজগতের উজ্জ্বলতম দুই গ্রহ শুক্র ও বৃহস্পতি আজ সোমবার চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করবে। এগুলোর এমন অবস্থানের কারণে রাতের আকাশে তৈরি হবে ত্রিভুজ আকৃতির এক অনন্য দৃশ্য, যা আগামী ৪০-৪৫ বছরের মধ্যে আর দেখা যাবে না। তবে বিরল এ দৃশ্য কেবল উত্তর আমেরিকার লোকজনই খালি চোখে দেখতে পাবে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের গিরিফিথ মানমন্দিরের জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক পর্যবেক্ষক অ্যান্টনি কুক বলেন, সোমবার সুর্যাস্তের ঠিক পরমুহুর্তে দক্ষিণ-পশ্চিমের আকাশে শুক্র, বৃহস্পতি ও চাঁদকে একই সঙ্গে দেখা যাবে। এ জন্য কোনো টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে না। খালি চোখেই এগুলো দেখা যাবে। এগুলো প্রতিবছর একে অন্যকে অতিক্রম করলেও এমন অবস্থান তৈরির ঘটনা খুবই বিরল।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে শুক্র ও বৃহস্পতি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে একে অপরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। গতকাল রোববার চাঁদ ওই দুই গ্রহের কিছুটা নিচে ছিল। আজ রাতে গ্রহ দুটির ওপরে অবস্থান নেবে চাঁদ। কাল মঙ্গলবার থেকে এগুলো ফের একে অপর থেকে দুরে সরে যেতে থাকবে। ২০৫২ সালের আগপর্যন্ত এগুলো আর এমন কাছাকাছি অবস্থানে আসবে না। আবার সেই বিরল দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে প্রায় ৪৪ বছর।
গতকাল হ্যামিলটনের ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ ও জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডগলাস ওয়েলস বলেন, "কম শক্তিশালী দুরবিন দিয়েও বৃহস্পতির চারটি চাঁদকেও দেখা যাবে। আগামীকাল আমরা হয়তো অনেকেরই ফোন পাব। তারা রাতের আকাশে কী দেখা গেল এমন সব প্রশ্ন করবেন।"
সন্ধ্যার আগমুহুর্ত থেকে শুক্র, বৃহস্পতি ও শনির খুব কাছাকাছি অবস্থানের দৃশ্যটি পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা গেলেও বাস্তবে তাদের মধ্যকার দুরত্বের ফারাক কিন্তু অনেক। পৃথিবী থেকে চাঁদের দুরত্ব দুই লাখ ৪০ হাজার মাইল, শুক্রের নয় কোটি ৩০ লাখ মাইল ও বৃহস্পতির ৫৩ কোটি ৯০ লাখ মাইল।
খবরে কেন যে শুধু উত্তর আমেরিকা থেকে দেখা যাওয়ার কথা বলেছে তা বুঝতে পারলাম না। এছাড়া যে ছবিটি দিয়েছিল, তাতে চাঁদের সাথে অন্য গ্রহদুটোকে এক লাইনে দেখা গেছে। কিন্ত আমরা বাস্তবে সত্যি সত্যি ত্রিভুজাকারেই দেখলাম। প্রথম আলো খবর সংগ্রহ করেছে thestar থেকে। সেখানে ভিজিট করে মূল ছবিটি দেখলাম। খবরটিও পড়লাম। The Star এ প্রকাশিত ছবিটা স্পষ্ট ও বড় হওয়ায় বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে। চাঁদ তার নিজস্ব গতিপথে চলতে চলতে শুক্র ও বৃহস্পতিগ্রহের মাঝখান দিয়ে যাবে। সেই সময়ে এক অনন্য মুহূর্তে তৈরি হবে এক মহাজাগতিক ত্রিভুজ।
সত্যিই তাই। আমি ও আমরা দৃশ্যটি দেখেছি ঠিক যখন ত্রিভুজ তৈরি হয়েছে, তখন। সন্ধ্যা পার হয়ে, ৭টার পরপর। বাড়ির আশেপাশে গাছপালা থাকায় দীর্ঘসময় ধরে বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করতে পারিনি। কিন্তু মূল দৃশ্যটি দেখতে পেরেছি।

স্থির ছবিসূত্র: thestar
Read More ...

Saturday, September 20, 2008

আগামী দিনের শক্তি যোগাবে চাঁদের মাটি -২

মূল লেখা: How Lunar Soil Could Power the Future
লেখক: Michael Schirber
সূত্র: লাইভ সাইন্স

হিলিয়ামের উৎসঃ

স্পষ্ট আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও হিলিয়াম-৩কে গবেষকরা বাদ দিয়ে থাকেন। এর একমাত্র কারণ হল পৃথিবীতে এর পরিমাণ খুব কম। পারমাণবিক অস্ত্রের ভিতরে অপ্রয়োজনীয় অবশেষ হিসেবে হিলিয়াম-৩ পাওয়া যায়। আর এর মূল্যও অনেক বেশি। ১ গ্রামের দাম ১০০০ ডলার।

সূর্যের যে আলোক প্রবাহ (Solar Wind/ সৌর ঝড়) সেখান থেকে অনবরত হিলিয়াম-৩ সংগ্রহ করা যেতে পারে, কিন্তু পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়ে সূর্যকণাগুলো ভূপৃষ্ঠে না এসে বহির্জগতে বিকিরিত হয়ে যায়। চাঁদের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দুর্বল হবার কারণে এমনটা ঘটে না। গত ৪-৫ বিলিয়ন বৎসরে চাঁদে ইতিমধ্যেই ১ মিলিয়ন থেকে ৫ মিলিয়ন টন হিলিয়াম-৩ জমা হয়ে গেছে।

এই ভাবনার স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। চাঁদ থেকে নিয়ে আসা পাথরগুলোতে ১ বিলিয়নে ১০ থেকে ২০ ভাগ পরিমাণে হিলিয়াম-৩ পাওয়া গেছে। নাসা প্রতিষ্ঠিত চাঁদ ও গ্রহগুলো সম্পর্কে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের Paul Spudis বলেন -" চাঁদে হিলিয়াম-৩ রয়েছে, কিন্তু খুব কম পরিমাণে। এর অর্থ হল ১ টন হিলিয়াম-৩ পেতে হলে লক্ষ লক্ষ টন মাটিকে পরিশোধন করতে হবে।" প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে হিলিয়াম -৩ পেতে হলে চাঁদের ধূলিকণাকে প্রায় ১৩০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট (৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় পোড়াতে হবে।

চাঁদের মাটি থেকে হিলিয়াম-৩ সংগ্রহ করার সম্ভাব্য রোভারের ডিজাইন। এই রোবট সূর্যের আলোকে বিশালাকার ডিশ আয়না দিয়ে প্রতিফলিত করে মাটিকে উত্তপ্ত করে তুলবে।
ছবি কৃতজ্ঞতা: Credit: University of Wisconsin


কুলসিনস্কি ও তার দল ইতিমধ্যেই একটি যন্ত্রের ডিজাইন দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। এই রোভার নিজে নিজে চাঁদের মাটিকে খামচে তুলে নিয়ে ঘনীভূত সূর্যের আলো দিয়ে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে পারবে।
কুলসিনস্কি হিসাব কষে দেখিয়েছেন, এই ধরণের খননকার্য মোট ব্যয় করা শক্তির (চাঁদে যাওয়া আসার শক্তি সহ) চাইতে ৩০০ গুণ বেশি শক্তি আহরণ করতে পারবে। তুলনামূলকভাবে একটি কয়লা খনি তার পিছনে ব্যয় করা মোট শক্তির ১৫-২০ ভাগ বেশি ফিরিয়ে দেয়। তাঁর গবেষকদল সম্ভাব্য খরচ হিসেবে মনে করেন যে চাঁদ থেকে ১ টন হিলিয়াম সংগ্রহ করতে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এটা শুনতে অনেক বেশি মনে হয়। কিন্তু তুলনা করলে দেখা যাবে, ১ ব্যারেল গ্যাসোলিনের দাম যেখানে ১০০ ডলার সেখানে সেখানে ১ টন হিলিয়াম-৩ এর মূল্য মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। কুলসিনস্কি অবশ্য বলেছেন-"আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিলিয়াম সংগ্রহ করা নয়, আমরা শুধু এই তথ্যটা দিতে চাই যে আমরা একে পোড়াতে পারি।"

পোড়ানো সমস্যাঃ
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ পোড়ানোর চাইতে হিলিয়াম-৩ পোড়াতে প্রাথমিকভাবে অনেক অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। এজন্য ITER ঠিক এই মুহূর্তে হিলিয়াম-৩ কে সম্ভাব্য জ্বালানী হিসেবে মনে করছে না।

তবে কুলসিনস্কির দল একটি অন্য উপায়কে নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর নাম IEC, এর মাধ্যমে তারা ফিউসন বিক্রিয়াকে কিভাবে ত্বরান্বিত করা যায় তার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

ITER এর পরিকল্পনা হল চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ব্যবহার করে উচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমা তৈরি করা। কিন্তু IEC বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের (Electric Field) ভিতর দিয়ে পারমাণবিক কণাগুলোকে পরিচালনা করে এই কাজটি করতে চায়।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কুলসিনস্কি ও তার সহযোগীরা তাদের প্রাথমিক যন্ত্রটিতে সীমিত মাত্রার নিউক্লিয়ার ফিউসন তৈরি করতে পেরেছেন। EMC2 Fusion কোম্পানীও একই পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছে।

তবে IEC এর যাবতীয় প্রস্তাবনা ও উপস্থাপনা এখন পর্যন্ত সরবরাহের চেয়ে কম পরিমাণের শক্তি উৎপাদন করছে। আর একারণ অন্যান্য গবেষকগণ মনে করছেন ফিউসন চুল্লীর জন্য হিলিয়াম-৩ ব্যবহারের ধারণা হয়তো কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।

Paul Spudis তার প্রতিক্রিয়া জানাতেগিয়ে বলেন "কখনো শব্দটি কারও কখনো বলা উচিত নয়। আগামী শতাব্দীগুলোতে শক্তি উৎপাদন করার জন্য হিলিয়াম-৩ হয়ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নেবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ হয়তো এখনও আসেনি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আগামীতে সেই সময় আসছে।"

সমাপ্ত
Read More ...

Monday, September 15, 2008

আগামী দিনের শক্তি যোগাবে চাঁদের মাটি

মূল লেখা: How Lunar Soil Could Power the Future
লেখক: Michael Schirber
সূত্র: লাইভ সাইন্স

আগামী দিনগুলোতে চাঁদের গুরুত্ব নতুন করে বেড়ে যাচ্ছে। মহাকাশ যাত্রায় সমর্থ দেশগুলো চাঁদে তাদের নতুন রেলস্টেশন স্থাপন করার চিন্তাভাবনা করছে। এর একমাত্র কারণ হল আগামী দিনের ফিউশন চুল্লীগুলির জন্য খনিজ জ্বালানীর সংগ্রহ।

এক্ষেত্রে জ্বালানী হল হিলিয়াম-৩ (Helium-3)। এটা হিলিয়ামের এক হালকা আইসোটোপ। সাধারণত বেলুন ওড়ানোর কাজে একে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই হিলিয়াম-৩ এর সাথে যদি পারমাণবিক কণার খুব জোরে সংঘর্ষ ঘটানো যায়, তাহলে প্রচলিত পারমাণবিক চুল্লীর চাইতে অনেক বেশি শক্তি উৎপাদন করা যায়। এতে বর্জ্য অংশের পরিমানও তুলনামূলকভাবে কম উৎপন্ন হয়। পরমাণু বিজ্ঞানী জেরাল্ড কুলসিনস্কি বলেন-"যদি আমরা হিলিয়াম-৩ কে পুড়ে যাওয়া দেখাতে পারতাম, তাহলে বোঝানো যেত যে সত্যিই এটা অন্য পারমাণবিক জ্বালানীর চাইতে কতই না নিরাপদ ও কার্যকরী। মাত্র ৪০ টন হিলিয়াম-৩ দিয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সারা বৎসরের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হল পৃথিবীতে আসলে কোন হিলিয়াম-৩ নেই। চাঁদ হল সবচাইতে নিকটবর্তী জায়গা যেখান থেকে এর সরবরাহ পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যেই চীন, রাশিয়া এবং ভারত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে পেরেছে। তারা মনে করছে হিলিয়াম-৩ সংগ্রহ করে তারা তাদের চন্দ্রাভিযানের খরচ অনেকাংশে তুলে আনতে পারবে। তবে বিজ্ঞানী কুলসিনস্কি বলেন- "হিলিয়াম-৩ আনার জন্য এখনই কাউকে আমি উৎসাহিত করছি না। তবে আগামীতে আমাদেরকে যে জ্বালানীর সংকটে পড়তে হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।"

ফিউশন সমস্যার সমাধানঃ
বর্তমানকালের সবকটি পারমানবিক চুল্লী ফিশন (Fission) ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। এগুলোতে কোন বড় আকারে পরমাণু কণাকে (যেমন ইউরেনিয়াম) ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এর পরিবর্তিত রূপ হল ফিউশন(Fusion)। এখানে দুটি ছোট পারমানবিক কণাকে (Nuclei) কাছাকাছি নিয়ে এসে একটি বড় কণা তৈরি করা হয়। এর ফলে প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। এখন পর্যন্ত কোন বাণিজ্যিক ফিউশন চুল্লী তৈরি করা হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি একটা প্রোটোটাইপ চুল্লী (ITER -International Thermonuclear Experimental Reactor) ফ্রান্সের Cadarache এলাকায় চালু করা হয়েছে। ২০১৬ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রী প্লাজমা (Plasma) তৈরি করার পরিকল্পনা এদের রয়েছে। মূল লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে এমন শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করতে আরও ২০ বৎসর লেগে যাবে।

ITER (International Thermonuclear Experimental Reactor) বা আন্তর্জাতিক পারমানবিক তাপ পরীক্ষণ চুল্লীতে দুইটি হাইড্রোজেন আইসোটোপের মধ্যে বিক্রিয়া ঘটানো হবে। এই দুটো হল ডিটেরিয়াম (Deuterium) ও ট্রিটিয়াম (tritium)। এখানে বিশেষ সতর্কতার বিষয় হল যে ট্রিটিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ এবং পারমানবিক অস্ত্র তৈরি করতে ব্যবহারকরা হয়। সেজন্য খুব সাবধানে এটাকে নাড়াচাড়া করা দরকার।

এছাড়া আরও একটি সমস্যা যে, ডিটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর মধ্যের বিক্রিয়ায় খুব উচ্চ শক্তির পারমানবিক কণার বিকিরণ ঘটে। এই কণাগুলো চুল্লীর দেয়ালে খুব জোরে ধাক্কা দিয়ে কাঠামোর ক্ষতিসাধন করে। ফলে ITER এর দেয়াল প্রত্যেক বছরে বছরে পরিবর্তন করতে হবে। এই সব কারণে কুলসিনস্কি (Kulcinski) এবং তার সহকারীরা ট্রিটিয়াম এর বদলে তেজস্ক্রিয়তাবিহীন হিলিয়াম-৩ ব্যবহার করতে চান।

'সান্তা ফে' তে অবস্থিত EMC2 Fusion কোম্পানীর Rick Nebel বলেন- হিলিয়াম-৩ এর অন্যতম প্রধান সুবিধা হল বিক্রিয়ার সময় এটা অল্প সংখ্যক পারমাণবিক কণা তৈরি করে। ফলে খুব কম পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তার বিকিরণ ঘটে। আর এতে সমস্ত যন্ত্রটিও সরল থাকে। এছাড়াও বিক্রিয়ার ফলে যে হিলিয়াম-৩ পাওয়া যায়, তা বিদ্যুতায়িত (Charged) থাকে। ফলে সরাসরি এটাকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা যায়। আলাদা ভাবে জল গরম করে বাষ্প তৈরি করতে হয় না।

অসমাপ্ত
Read More ...

Wednesday, September 10, 2008

বিগব্যাঙ থিয়োরির রহস্য উন্মোচন

LHC এর ভিতরের ছবি
মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বটি হল বিগব্যাঙ তত্ত্ব। এই তত্ত্বের কিছু কিছু বিষয় অজানা থেকে গেছে। এছাড়াও মহাবিশ্বের বিভিন্ন রহস্যময় বিষয় রয়েছে যাকে আজও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এই সব নানাকিছু বিষয় নিয়েই আজ একটি বিশেষ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

পরীক্ষাটা হচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমানার কাছাকাছি এলাকায়। মাটির ১০০-১৭৫ মিটার গভীরে ২৭ কি.মি. লম্বা টানেল বসানো হয়েছে। সেখানে বিগব্যাঙের সময়কালের আবহাওয়া তৈরি করা হবে। পদার্থবিজ্ঞানীরা এই পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যাটার, এন্টিম্যাটার, ব্লাকহোল ইত্যাদি সম্পর্কে অজানা তথ্যগুলো সংগ্রহ করার চেষ্টা করবেন।

বিগব্যাঙের সময়ে অর্থাৎ মহাবিশ্বের সৃষ্টির শুরুতে চারপাশের চেহারা কেমন ছিল এটা জানার আগ্রহ বিজ্ঞানীদের অনেকদিনের। সেই উৎসুক্যকে তৃপ্ত করতে আয়োজন হয়েছে আজকের এই গবেষণা।ইউরোপের সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের পাশে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণাগার রয়েছে। এর নাম CERN বা European Organisation for Nuclear Research। পরমাণু নিয়ে যাবতীয় গবেণার এই গবেষণাগারে স্থাপন করা হয়েছে Large Hadron Collider (LHC)। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই যন্ত্রটিকে চালু করা হবে। এই LHC বা Big Bang Machine এর মধ্যে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকালের অবস্থাকে তৈরি করা হবে। ফলে জন্ম নেবে বিভিন্ন এন্টিম্যাটার, ডার্ক পার্টিকল, ব্লাকহোল ইত্যাদি। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন এর ফলে কণা পদার্থবিজ্ঞানের অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। ভর কি? ডার্ক ম্যাটার কি? অদৃশ্য কিন্তু ভরযুক্ত পদার্থ গুলো কোথায় গেল। সৃষ্টির সময় জন্ম নেয়া এন্টিম্যাটারগুলো এখন নেই কেন?

Large Hadron Collider (LHC) হল এযাবতকালের সবচাইতে বড় কণা নিয়ে গবেষণার যন্ত্র।

মহাবিশ্ব সম্পর্কে গভীরতর প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য LHC পদার্থের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে ভেঙে ফেলবে। উপরের ছবির মত বিশালাকার (২৭ কি.মি. দৈর্ঘ্য) আংটির মত টানেলে দুটি সোনা(Gold)'র কণাকে ছুড়ে দেয়া হবে। এগুলো এই টানেলের ভিতরে আলোর গতির ৯৯.৯৭% গতিবেগে ছুটবে। পরস্পরকে আঘাত করে সেকেন্ডে ৬০০ মিলিয়ন বার ভেঙে ফেলবে। এর যে ফলাফল তা পর্যবেক্ষণ করবে টানেলের ভিতরে বসানো কিছু যন্ত্র। এই পরীক্ষা প্রতিদিন ৪০,০০০ গিগাবাইট ডাটা তৈরি করবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত সারাবিশ্বের ১০০,০০০ টি কম্পিউটার এই তথ্যকে বিশ্লেষণ করবে। ফ্লাশ দিয়ে তৈরি গোটা ব্যাপারটার একটা চমৎকার সিমুলেশন রয়েছে এই লিংকে

প্রায় ২০ বৎসর ধরে এই পরীক্ষাকার্যের প্রস্তুতি চলেছে। খরচ হয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার। ৭০টি দেশ থেকে ১০,০০০ বিজ্ঞানীরা তাদের মেধার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটাতে দিনরাত কাজ করে চলেছেন। চাঁদে এপোলোর অবতরণের পর এই গবেষণাটিকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে যে এই গবেষণার ফলে মহাবিশ্বের অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

তবে বিরুদ্ধবাদীরাও বসে নেই। তারা বলছেন যে এই গবেষণার ফলে যে ব্লাকহোলের সৃষ্টি হবে, তা মুহূর্তেই এই পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলবে। বিরুদ্ধবাদীদের তৈরি একটি ভিডিও ইউটিউব থেকে নিচে তুলে দিলাম।



প্রথম ভিডিও


দ্বিতীয় ভিডিও
==========
  • বিবিসি এই বিগব্যাঙ নিয়ে গবেষণার বিভিন্ন খবরাখবর তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করার জন্য একটি ওয়েবসাইট খুলেছে। এখানে কয়েক মিনিট পরপর তথ্য আপডেট করা হচ্ছে।
  • এই লিংকে গিয়ে LHC এর 3D ছবি দেখুন।
  • LHC এর অফিসিয়াল হোমপেজ
  • যারা নিজেদের কম্পিউটার LHC কে ব্যবহার করতে দিয়ে এই বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে সহায়তা করতে চান তারা এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নাম রেজিস্ট্রি করুন।
Read More ...

Sunday, August 17, 2008

চন্দ্রগ্রহণ

১৬ আগস্ট ২০০৮ তারিখ দিবাগত রাত্রে একটা চন্দ্রগ্রহণ (Lunar eclipse) হল। বাংলাদেশ থেকে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায় নি। আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখা গেছে। সারা বাংলাদেশ থেকেই এই গ্রহণ দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

এই ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল। আর ১৬ আগস্ট তারিখে হল আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে আর একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হবে। পরবর্তী পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর তারিখে।

এই চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে উইকিপিডিয়াতে এবং একলিপ্স.অর্গ.ইউকে (উপরের ছবিটি এখান থেকে নেয়া) ওয়েব সাইটে। উপরের ছবিটির ব্যাখ্যা এবং চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এখানে
Read More ...

Friday, August 15, 2008

বলয়গ্রাস ও অদ্ভুত সূর্যগ্রহণ

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ

দুঃখজনক ব্যাপার হল সব সূর্যগ্রহণ পূর্ণগ্রহণ হয় না। কারণ বেশিরভাগ সময় চাঁদ এত ছোট থাকে যে সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলতে পারে না। এর প্রধান কারণ চাঁদের কক্ষপথ ঠিক গোলাকার নয়। তাই পথটি কিছুটা বাঁকা, ডিম্বাকার। ফলে যখন পৃথিবীর চারপাশে চাঁদ পরিভ্রমণ করে তখন পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব কমবেশি হয়। ২২১,০০০ থেকে ২৫২,০০০ মাইল পর্যন্ত ওঠানামা করে। দূরত্বের এই ১৩% ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর একই জায়গা থেকে আকাশে চাঁদের আকৃতি ভিন্নরকম দেখা যায়। ঘূর্ণনরত অবস্থায় যখন চাঁদ পৃথিবীর কাছাকাছি থাকে তখন তাকে সূর্যের চেয়ে বড় দেখায়, এই সময়ে যদি কোন গ্রহণ হয, তাহলে সেটা পূর্ণগ্রহণ হবে। আর যদি পৃথিবী থেকে দূরে থাকে তাহলে চাঁদকে সূর্যের চাইতে ছোট দেখাবে। এই অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলতে পারে না। তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীপৃষ্ঠে পৌঁছানোর মত লম্বা হয় না।

তারপরও প্রতিচ্ছায়া পৃথিবীপৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায়। এই প্রতিচ্ছায়া পৃথিবীর যে অংশে পড়ে সেইসব অংশ থেকে এক ভিন্নরকম সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এই ছায়ার মধ্যে থেকে দেখলে দেখা যাবে সূর্যের চারদিকে আলোর একটি রিং অথবা আলোর বলয় চাঁদের ছায়াকে ঘিরে আছে। একে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে। এই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ খালিচোখে দেখা খুবই বিপদজনক।
বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ সাধারণত ৪-৫ মিনিটের মত স্থায়ী হয়। তবে কখনো কখনো এর স্থায়ীত্ব ১০-১২ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।

অদ্ভূত সূর্যগ্রহণ: বলয়গ্রাস ও পূর্ণগ্রহণের মাঝামাঝি আর এক রকমের সূর্যগ্রহণ রয়েছে। এর নাম অদ্ভূত হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ। এক দুর্লভ অবস্থার সময় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণে রূপান্তরিত হতে পারে। অথবা বিপরীতক্রমে পূর্ণসূর্যগ্রহণ পরিবর্তিত হয়ে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের রূপ লাভ করতে পারে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ কিংবা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীপৃষ্ঠের বক্রতার কারণে যদি ভিন্ন দৃষ্টিকোণের সৃষ্টি হয়, তাহলে এই ধরণের সূর্যগ্রহণ ঘটে। হাইব্রিড সূর্যগ্রহণকে কখনো পূর্ণ আবার কখনো বলয়গ্রাস গ্রহণ বলে মনে করা হয়। শেষ হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ ঘটেছে ২০০৫ সালে। আর পরেরটা ঘটবে ২০১৩ সালে।

২০০৫ সালের সূর্যগ্রহণ

সূর্যগ্রহণের ধারাবাহিকতা:

গত ৫ হাজার বৎসরে অর্থাৎ ২০০০ খ্রি.পূ. হতে ৩০০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ১১,৮৯৮ টি সূর্যগ্রহণের তালিকা করা হয়েছে।

অর্থাৎ বৎসরে গড়ে ২.৪ টি সূর্যগ্রহণ। কিন্তু কোন্একটি বৎসরে ২ থেকে ৫টি সূর্যগ্রহণ হতে পারে। অন্ততঃ ৩/৪বার একই বৎসরে ২টি সূর্যগ্রহণ মানুষ পর্যবেক্ষণ করেছে। বিপরীতপক্ষে কোন একটি বৎসরে ৫টি সূর্যগ্রহণ হওয়া খুবই দুর্লভ ঘটনা। শেষ ১৯৩৫ সালে এমন ঘটেছে, আর আগামী ২২০৬ সালে এমনটা ঘটবে। সাধারণত প্রত্যেক ১ থেকে ২ বৎসরে ১টা করে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে।

ছবি ও তথ্য কৃতজ্ঞতা: MrEclipse.com (লিখিত অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে প্রকাশ করা হল)

Read More ...

Tuesday, August 12, 2008

পূর্ণতার পথ ও বিস্ময়কর পূর্ণতা

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এবং পূর্ণতার পথ
পূর্ণতার পথ
যদি চাঁদের ছায়ার অভ্যন্তরভাগ পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর দিয়ে সোজা চলে যায়, তাহলেই সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। পৃথিবী পৃষ্ঠের যে অংশ দিয়ে এই ছায়া পরিভ্রমণ করে তাকে বলে পূর্ণগ্রহণের পথ। সাধারণত এই পথ ১০.০০০ মাইল লম্বা এবং প্রায় ১০০ মাইল চওড়া। পৃথিবীর সম্পূর্ণ পৃষ্ঠদেশের মাত্র ১% ভাগে এই ছায়া পরে। চাঁদের দ্বারা সৃষ্ট পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে হলে এই পথের কোন এক জায়গায় উপস্থিত থাকতে হবে।

পৃথিবীর যে কোন জায়গা দিয়ে 'পূর্ণগ্রহণের পথ' চলে যেতে পারে। উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে কোন জায়গায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে। মনে রাখতে হবে বৎসরে মাত্র ১টা কি ২টা আবার কখনও কখনও ২ বৎসরে ১টা পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটতে পারে। আবার যেহেতু পৃথিবীপৃষ্ঠের বেশ সরু একটা এলাকা দিয়ে পূর্ণসূর্যগ্রহণ পরিভ্রমণ করে সেহেতু একই জায়গা থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ বারবার দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। সাধারণত একই জায়গা থেকে পুনরায় পূর্ণসূর্যগ্রহণ দেখার জন্য গড়ে ৩৭৫ বৎসর অপেক্ষা করতে হতে পারে। অবশ্য মাঝের এই বিরতির সময়টা কমবেশিও হতে পারে। যেমন: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্রিন্সটন এলাকা থেকে শেষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে ১৪৭৮ সালে। এর পরের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটবে ২০৭৯ সালে। দুই পূর্ণগ্রহণের মাঝে ৬০১ বৎসরের বিরাট একটা ফারাক রয়েছে। কিন্তু সেই প্রিন্সটন থেকেই পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২১৪৪ সালে। অর্থাৎ মাত্র ৬৫ বৎসর পরে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০০৯ সালের ২২ জুলাই তারিখে। এর পরবর্তী ১০০ বৎসরে আর কোন পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঐ এলাকা থেকে দেখা যাবে না।

২০০৬ সালের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ
বিস্ময়কর পূর্ণতা
খুব অল্প সময়ের জন্য পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে। কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হওয়া খুব দুর্লভ ঘটনা। একেবারে পূর্ণ সূর্যগ্রহণকে এক বিরল প্রাকৃতিক প্রদর্শনী বলে অভিহিত করা হয়। সূর্যের উজ্জ্বল অংশ যখন চাঁদের কালো গোলক দিয়ে ঢেকে যায়, তখন পৃথিবী গোধুলির মত রহস্যময় আলো আঁধারিতে ঢেকে যায়। তখন চাঁদের চারপাশে এক হালকা আলোকবলয় দেখা যায়। এটাই সূর্যের বিখ্যাত জ্যোতির্বলয়। এটা তৈরি হয় সূর্যের প্লাজমা দিয়ে। এর তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে। এই জ্যোতির্বলয় মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য দেখা যায়।

বিজ্ঞানীরা পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন। সূর্যের বলয়ের তাপমাত্রা অনেক বেশি কেন থাকে? কিভাবে সূর্যের এই প্লাজমা অংশের তাপ এবং শক্তি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে? সূর্যের এই শিখা কিভাবে তৈরি হয়? এরকম বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানীরা সূর্যগ্রহণের সময় খোঁজার চেষ্টা করেন।

ছবি ও তথ্য কৃতজ্ঞতা: MrEclipse.com (লিখিত অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে প্রকাশ করা হল)
Read More ...

Sunday, August 10, 2008

সূর্যগ্রহণ কি ?

সূর্যগ্রহণ (Solar Eclipse): সূর্যগ্রহণ কি, সূর্যগ্রহণ কিভাবে হয়, কেন হয় ইত্যাদি বিষয়ে মানুষের অনুসন্ধিৎসা অনেক পুরনো। প্রাচীনকালে মানুষ মনে করত অলৌকিক বা আধিভৌতিক কোন কারণে সূর্যগ্রহণ ঘটে। কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ পুরনো ধারণাকে ভ্রান্ত বলে বুঝতে পেরেছে। জানতে পেরেছে সূর্যগ্রহণের পিছনের বিস্তারিত ও যথাযথ কারণগুলি।

সূর্যগ্রহণ কেন হয় তা জানতেহলে আমাদেরকে প্রথমে চাঁদের গতিপথকে চিনতে হবে। চাঁদ শীতল, পাথুরে একটি উপগ্রহ; এর ব্যাস প্রায় ২,১৬০ মাইল (৩,৪৭৬ কি.মি.)। চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের পৃষ্ঠদেশে পরে চাঁদকে আলোকিত করে তোলে। আমরা সূর্যের প্রতিফলিত আলোকে চাঁদের আলো বলে মনে করি। চাঁদ সাড়ে ২৯ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে। প্রত্যেকটা আবর্তনের সময় চাঁদ তার গতিপথের কিছুটা পরিবর্তন করে।

চাঁদের আবর্তনকালের 'নতুন চাঁদ' বলতে যে অবস্থাকে বোঝানো হয়, তা আসলে পৃথিবী থেকে কোনক্রমেই দৃশ্যমান নয়। কারণ এ সময় চাঁদের যে অংশটি আলোকিত থাকে তা পৃথিবী থেকে দৃষ্টিপথের বাইরে থাকে। পূর্ণিমার দিকে যাওয়া চাঁদের পরবর্তী অবস্থাগুলো পৃথিবী থেকে আমরা প্রতিদিন দেখতে পারি। মাসের পর মাস ধরে চাঁদ একই রূপ নিয়ে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে চলেছে। চাঁদের ২৯.৫ দিন(Moon's 29.5 day period) আবর্তন থেকে Month শব্দটি এসেছে।

বেশ কিছু পুরনো সভ্যতায় চাঁদের মাসিক চক্রকে ব্যবহার করে সময় গণনা করা হত। দৈনন্দিন জীবন নির্বাহের জন্য এটা তাদের খুব প্রয়োজনীয় পদ্ধতি ছিল। আসলে অনেক ক্যালেন্ডার চাঁদের বিভিন্ন অবস্থার উপর নির্ভর করেই তৈরি করা হয়েছিল। হিব্রু, মুসলিম এবং চাইনিজ ক্যালেন্ডারগুলো আসলে চান্দ্রমাসকে প্রামান্য বলে বিবেচনা করে। চাঁদের মাসিক চক্রের শুরুর সময়টা বের করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময় থেকেই মাসের গণনা শুরু হয়। সূর্যগ্রহণের সাথেও এই নতুন চাঁদের সূচনাক্ষণটির সুগভীর সম্পর্ক আছে।


চাঁদের দুই ছায়া:
সূর্যের কোন গ্রহণ (অর্থাৎ সূর্যগ্রহণ) শুধুমাত্র নতুন চাঁদের সময়ে ঘটে থাকে। এই সময়ে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখান দিয়ে চাঁদের আবর্তন ঘটে। এই সময়ে তৈরি হওয়া চাঁদের ছায়া যদি পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশে পড়ে তাহলে সূর্যকে আমরা ঢেকে যেতে দেখব। অর্থাৎ চাঁদের দ্বারা একটি সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হবে। যেহেতু নতুন চাঁদ প্রত্যেক সাড়ে ২৯ দিনে দেখা যায়, সেহেতু মনে হতে পারে যে প্রত্যেক মাসেই বুঝি সূর্যগ্রহণ ঘটে; প্রত্যেক মাসেই আমাদের সূর্যগ্রহণ দেখতে পাওয়া উচিত। কিন্তু এমন ঘটে না। কারণ পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের আবর্তন পথ সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তন পথের চাইতে ৫ ডিগ্রি কাত হয়ে আছে। এর ফলে নতুন চাঁদের বিকাশকালে চাঁদের ছায়া প্রায়ই পৃথিবীর বাইরে হয় উপরে বা নিচে পরে যায়। বছরে মাত্র দুইবার পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য এই তিনটি বস্তু ঠিক সমান লাইনে থাকে। এর ফলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর কিছু কিছু অংশে পড়ে এবং আমরা সেইসব জায়গা থেকে সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করি।

চাদের ছায়ার দুইটি অংশ আছে।
(ক) উপছায়া, (খ) ছায়া

(ক) উপছায়া:
  • চাঁদের ছায়ার হালকা বহিরাবরণ
  • এই ছায়া যে অংশে পড়ে, সেই অংশে পৃথিবী থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
(খ) ছায়া:
  • চাঁদের ছায়ার অভ্যন্তরভাগের অধিকতর কালো অংশ।
  • এই অংশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

যখন চাঁদের উপছায়া পৃথিবীর উপরে পরে, তখন ঐসব জায়গা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের চাইতে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা অধিকতর বিপদজনক। কারণ, সূর্যের যে অংশে গ্রহণ লাগে না, সেই অংশটিতে সূর্য খুব উজ্জ্বল থাকে। সূর্যের এই উজ্জ্বলতর অংশ খালি চোখের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। তাই বিভিন্ন ধরণের ফিল্টার ব্যবহার করে আংশিক সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

A. Total eclipse in the umbra.
B. Annular eclipse in the antumbra.
C. Partial eclipse in the penumbra
(এই ছবি ও তথ্য নেয়া হয়েছে উইকপিডিয়া থেকে)

তথ্য ও ছবিসূত্র: Mr.Eclipse.com সাইটের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে তথ্য ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

অসমাপ্ত
Read More ...

Friday, August 1, 2008

সূর্যগ্রহণের ছবি

আমার তোলা সূর্যগ্রহণের কয়েকটি ছবি দিয়ে দিলাম। অতটা ভাল হয় নি। কিন্তু এটা যে সূর্যগ্রহণের ছবি তা বোঝা যাচ্ছে।
Read More ...

আজ সূর্যগ্রহণ হল

এ বৎসরের প্রথম সূর্যগ্রহণ আজ হল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। তবে বাংলাদেশ থেকে পুর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। শুধুমাত্র আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

সমকাল পত্রিকার সংবাদে বলা হয়েছে:-
বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ৪ মিনিট ৬ সেকেন্ডে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ শেষ হবে। সর্বোচ্চ গ্রহণ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ২১ মিনিট ৬ সেকেন্ডে ঘটবে। গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১ দশমিক শহৃন্য চার (১.০৪) এবং তা ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে কানাডার নিউ ফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের পূর্বদিকে স্থানীয় সময় ৪টা ৩৫ মিনিট ৮ সেকেন্ডে সহৃর্যগ্রহণ শুরু হবে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে ভারতের তামিলনাড়ূ উপকূলের পূর্বদিকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে গ্রহণ শেষ হবে। কানাডার ভিসকাউন্ড মেলভিল সাউন্ড প্রণালীতে স্থানীয় মান সময় বেলা ২টা ৩০ মিনিট ৭ সেকেন্ড কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হবে। চীনের নানকিং শহরের উত্তর-পশ্চিম দিকে স্থানীয় সময় সল্পব্দ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় গ্রহণ শেষ হবে। রাশিয়ার ওব উপসাগরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে সর্বোচ্চ গ্রহণ ঘটবে। শুধু ওই স্থানেই গ্রহণের সর্বোচ্চ গ্রহণ মাত্রা হবে ১.০৪ এবং তা ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে।

২১ শতকের এটা ৬ষ্ঠ সূর্যগ্রহণ। এস্ট্রনমি.কম এর খবরে বলা হয়েছে আজকের সূর্যগ্রহণ পূর্ণভাবে দেখা যাবে কানাডা, আর্কটিক অঞ্চল, গ্রীনল্যান্ড, রাশিয়া এবং চীন থেকে। এই অঞ্চলের বাহির থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ চোখে পড়বে।


আজকের সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে কিছু তথ্য:

এই সূর্যগ্রহণ ছড়িয়ে পড়বে মোট ৬২০০ (১০,০০০ কি.মি.) মাইল এলাকাজুড়ে।
চাদের ছায়া সর্বউত্তরে পৌঁছাবে, আর্কটিক সাগরের ৮৩ ডিগ্রী ৪৭ মিনিট ল্যাটিচিউডে।
ছায়ার প্রস্থ হবে ১৪৭ মাইল বা ২৩৭ কি. মি.
ছায়ার পথ হল ৬,৩২৫ মাইল (১০,২০০কি.মি.) লম্বা
সূর্যগ্রহণকালীন সময়ে চাদের ছায়া পৃথিবীর ০.৪ ভাগ জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে।
সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হবে ২ ঘন্টা ৩ মিনিট। কিন্তু মূল গ্রহণ হ ২ মিনিট ২৭ সেকেন্ডব্যাপী।


ছবিসূত্র:
  • নড়াচড়া করা ছবিটা নেয়া হয়েছে উইকিপিডিয়া থেকে।
  • সূর্যগ্রহণের যাত্রাপথের ছবিটা নেয়া হয়েছে Astronomy.com থেকে। এই ছবিটা বেশ বড়। ছবির উপরে ক্লিক করলে বড় ছবি দেখা যাবে।
Read More ...

Sunday, April 13, 2008

সেলুলোজে প্রাণ

ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এখান থেকে

এতদিন পর্যন্ত মানুষের খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো জৈবিক পদার্থ ছিল এক ধরণের প্রোটিন। প্রায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ বৎসর আগের এই উপাদানটিকে সবচাইতে বয়স্ক প্রাণের উদাহরণ বলে মনে করা হত। এই প্রোটিন পাওয়া গিয়েছিল ভয়ংকর হিংস্র ডাইনোসর টাইরানোসরাক্স রেক্স ডাইনোসরের ফসিলে। কিন্তু এর চেয়েও পুরনো জৈবিক নমুনা পেয়েছেন নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সেললয়েজের এই সুক্ষ্ম আঁশগুলি ২৫৩ লক্ষ বছরেরও পুরনো। এগুলো পাওয়া গেছে। নিউ মেক্সিকো মরুভূমির এক প্রাচীন লবণ খনি থেকে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আণবিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত বর্জ্যপদার্থগুলো ফেলে দেয়া হয়। মাটির নীচে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে আণবিক বর্জ্যকে পুতে ফেলা হয়। প্রাগৈতিহাসিক এই সেলুলোজ Cyanobacteria দিয়ে তৈরি। এই নীলাভ সবুজ শৈবাল পৃথিবীর সাগর-স্থলের অনেক জায়গায় এখনও পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় এরা পৃথিবীতে ২.৮ বিলিয়ন বছর থেকে আছে।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদেরকে একটি ভিন্ন সম্ভাবনার আশা দিয়েছে। নাসার ওডেসি নামক মহাকাশ যান মঙ্গল গ্রহে প্রচুর লবনের সন্ধান দিয়েছে। এই আবিষ্কারকে মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা খুঁজে পাবার প্রত্যাশা বাতিল করে দিতে পারছেন না। সেলুলোজের আঁশগুলোর আবিষ্কারক ড. গ্রিফিথ বরেন - মঙ্গলগ্রহে প্রাণের প্রমাণ খুঁজতে হলে সেলুলোজের মধ্যে খুঁজতে হবে। ব্যাকটেরিয়া বা গাছপালা খুঁজে লাভ নেই। লবণের স্তুপের মধ্যে সেলুলোজ খুঁজতে হবে। তাহলে যদি প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেলেও যেতে পারে। ডিএনএ'র চাইতে সেলুলোজ অনেক বেশি টেকসই। বাহ্যিক বিভিন্ন অনুঘটক দ্বারা সহজে প্রভাবিত হয় না। রেডিয়েশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা ডিএনএ'র চাইতে অনেক বেশি। মহাকাশের বিরূপ আবহাওয়াতেও যদি এরকম দৃঢ়তা বজায় থাকে তাহলে সেলুলোজ এর মধ্যেই প্রাণের চিহ্ন পাওয়া যাবে।

গ্রিফিত এই লবণের নমুনা মাটির ২০০০ ফুট নিচ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তরল লবণ ও কেলাসিত লবণের কণাগুলো যখন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে তিনি পরীক্ষা করছিলেন তখন বিষয়টি ধরা পরে। তারা অনেক সেলুলোজের আঁশ অটুট অবস্থায় খুজে পান। সেলুলোজের আঁশগুলোর ব্যাস ৫ ন্যানোমিটার। অসংখ্য আঁশ পরস্পরকে জড়িয়ে জট পাকিয়ে আছে। কোন কোনটা দড়ির মত কোনটা আবার মাদুরের মত। গ্রিফিত বলেন- সময়ের দাগ সেলুলোজগুলো গ্রহণ করেনি। ঠিক টাটকা সেলুলোজের মতো ছিল সজীব। এটা দেখতে সেলুলোজের মত, আচরণও করছিল সেলুলোজের মত। বর্তমানকালের সেলুলোজের মত একই এনজাইম দিয়ে তৈরি। তিনি আরও বলেন -ওই লবণের মধ্যে আমরা কিছু ডিএনএ খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু পরিমাণে ছিল অনেক কম।

মহাকাশ গবেষণায় মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছে। মানুষ বহু আগে থেকে সৌরজগতের এই লাল গ্রহটিকে চিনতো। তার সম্পর্কে বিভিন্নরকম কৌতুহল এই আধুনিক যুগে এসেও মেটেনি। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী মঙ্গলগ্রহে পাওয়া লবণগুলো ৩.৫ থেকে ৩.৯ বিলিয়ন বছর আগের। স্বভাবগতভাবে লবণের খনি সবসময়ই জলের উপস্থিতির কথা বলে। সে হিসেবে যখন জল ছিল তখন সেখানে নিশ্চয় প্রাণের উপস্থিতিও ছিল। গ্রিফিনের মতে- সবচেয়ে প্রাচীন প্রাণ বলতে আসলে এক ধরণের গ্লুকোজকে (Polymerizing Glucose) বোঝানো হয়। জীবন তখনও কার্বন অবস্থায় ছিল। সেলুলোজের অন্তরালে ছিল তাদের আশ্রয়। ব্যাকটেরিয়া সেলুলজকে নিজেদের বাড়ির মত মনে করে। তার চারপাশ ঘিরে থাকে। গাছের কাঠামোর প্রধান উপাদান হল সেলুলোজ। কীটপতঙ্গ নিজেদের সেলুলোজের অবয়ব কিছুটা হলেও পাল্টাতে পারে। অর্থাৎ সেলুলোজ প্রাণের অন্যতম একটি উপাদান। আর তাই কোথাও তা সে মঙ্গলগ্রহ হোক আর মহাবিশ্বের যেকোন জায়গাতেই হোক না কেন গ্রিফিথ মনে করেন প্রাণ খুঁজতে হলে সেলুলোজের বুক উন্মোচন ছাড়া গত্যন্তর নেই।

Read More ...

Thursday, March 13, 2008

মঙ্গলে জল না অন্যকিছু?


ভিনগ্রহে প্রাণের খোঁজ পাওয়ার জন্য বিজ্ঞানীদের চেষ্টার শেষ নেই। যতরকমভাবে অন্য গ্রহে প্রাণের একটুমাত্র চিহ্ন খুঁজে পাওয়া সম্ভব তার সবই বিজ্ঞানীরা করে চলেছেন। সৌরজগতে পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী লাল গ্রহ মঙ্গল। পৃথিবীর মতই তার আকার। তাই প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

জীবনের জন্য জল অবশ্যম্ভাবী একটি বস্তু। এই জলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু পর্যন্ত বাঁচতে পারে। একথা পৃথিবীর মতো মঙ্গলের ক্ষেত্রেও সত্য। মঙ্গলে যদি কোনভাবে জলের একটুমাত্র চিহ্ন খুজে পাওয়া যায় তাহলে সেখানে প্রাণের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে।

বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় বিষয় হল মঙ্গলগ্রহে জলের উপস্থিতি। সৌরজগতের মধ্যে পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে বিজ্ঞানদের আগ্রহ অনেকদিনে। এই লাল গ্রহটিকে মানুষ অনেক আগে থেকেই চিনত। এই মঙ্গলগ্রহে একটি প্রাণ খুঁজে পাবার জন্য বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টার অন্ত নেই।

১৯৯৯ থেকেই এ ব্যাপারে জোর আলোচনা চলছে। বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহে প্রচুর পরিমাণ বরফে পরিণত হওয়া জলের সন্ধান দিয়েছেন। মঙ্গলগ্রহের দক্ষিণের পাথুরে অঞ্চলে একটি পাথরের শরীরের ঘষা দাগকে দূর অতীতে জলপ্রবাহের চিহ্ন বলে মনে করেন। এই আবিষ্কারটি নিয়ে ২০০৬ সালে হঠাৎ করে চারদিকে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন আলোচনায় বিজ্ঞানীরা একে জলপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট দাগ বলে মন্তব্য করেছেন।

নাসা কিছু ছবি প্রকাশ করেছিল যেগুলোতে জলপ্রবাহের চিহ্ন খুবই স্পষ্ট বলে বিজ্ঞানীরা মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এই বিস্ময়কর ঘটনাটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিদ্যার অধ্যাপক জন প্লেটিয়ার।

গতবছর সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে নাসা মঙ্গলের দক্ষিণের উচ্চভূমি কিছু ছবি প্রকাশ করেছিল। ছবিগুলো হাই রেজুলুশন ইমেজ সাইন্স এক্সপেরিমেন্ট (HiRISE) ক্যামেরায় তোলা। সম্প্রতি তোলা এই ছবিগুলো এবং পূবের্র ছবিগুলো ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা হয়েছে। এই ছবিগুলোতে পাথরের গায়ে সৃষ্টি হওয়া প্রবাহের ছাপ বেশ স্পষ্ট।

বিজ্ঞানী জন প্লেটিয়ার একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন _ আমরা কোন তত্ত্বকে ভুল প্রমাণিত করার জন্য শুরু করিনি। প্রথমদিকে আমিও ভেবেছিরাম এই দাগগুলো হয়ত সত্যিই কোন তরলের।

বিজ্ঞানীরা তৈরি করা সিমুলেশনটি বহুবার পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু কোনবারই তা তরল জলের প্রবাহের সাথে মেলেনি। কিন্তু শুকনো বা গুড়ো কোন কিছু যেমন বালি বা পাথরের টুকরো ইত্যাদির সাথে মিলে যায়।

তাহলে ঐ ঘষাটে দাগ কিসের? এ বিষয়ে আরিজোনার মহাকাশ বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যায়ের অধ্যাপক ম্যাকেইন বলেন_ আমরা শুকনা প্রবাহের তত্ত্বটি বাদ দেয়ার আশা করতে পারি কিন্তু তা সম্ভব নয়।

প্লেটিয়ার অবশ্য বলেন ১৬০০ ফিট লম্বা ও ৩৩০ ফিট উঁচু একটা ঘষে ছড়ে যাওয়ার দাগ বিষয়ে তরল প্রবাহের তত্ত্বকে আমার গবেষণা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করবেনা। এই দাগ হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারন হতে পারে কোনরকম ঘন কাদার প্রবাহ। এর মধ্যে ৫০-৬০ ভাগ অবশ্যই কোন দানাদার কিছুর মিশ্রণ ছিল, যেমন লাভা বা গুড়। প্লেটিয়ার (Pelletier) এর ভাষায় "The simplest explanationis that it is dry, granular flow," Pelletier said, "We think that the simpler explanation is probably the correct one."

Read More ...

Tuesday, March 11, 2008

২০১০ সালের সূর্যগ্রহণ

২০১০ সালের সূর্যগ্রহণ

২০০৯ সালের সূর্যগ্রহণের পর বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী ১০০ বৎসর আর কোন পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য জায়গা থেকে যথারীতি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। তেমন একটি সূর্যগ্রহণ হবে ২০১০ সালে ১১ জুলাই তারিখে। এই সূর্যগ্রহণটা সম্পূর্ণরূপে দেখা যাবে পৃথিবীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে। পাশের ছবিটা দেখলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, একেবারে দক্ষিণ মেরুর কোল ঘেঁষে এই সূর্যগ্রহণ পূর্ণরূপ গ্রহণ করবে। অস্ট্রেলিয়ার অল্প কিছু অঞ্চল ছাড়া আর যে জায়গাগুলো থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে সেই স্থলভাগগুলো মূল ভূখণ্ড নয়। সাগরের উত্তাল জলরাশির মাঝে জনবিরল প্রান্তরে ২০১০ সালের ১১ জুলাই ঘটতে যাওয়া সূর্যগ্রহণটি সংঘটিত হবে। কিছু আদিবাসী অধ্যুষিত দ্বীপ রয়েছে সাগরের এই অংশে। এই দ্বীপগুলোতে সুর্যগ্রহণ প্রেমিক, প্রকৃতিবিজ্ঞানী, গবেষক, প্রমুখ আগ্রহী পর্যবেক্ষকগণ ভীড় জমাবেন।

বিস্তারিত তথ্য রয়েছে এখানে

Read More ...

২০০৯ সালের সূর্যগ্রহণ


২০০৯ সালের সূর্যগ্রহণটা ভারত, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ অঞ্চলের যে জায়গা থেকে সম্পূর্ণ দেখা যাবে তার চিত্র।





বিস্তারিত তথ্য ও আরও চিত্র রয়েছে এখানে

http://sunearth.gsfc.nasa.gov/eclipse/SEpubs/IAU233.html

Read More ...

Sunday, March 9, 2008

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ

ছবিটি NASA Eclipse Home page থেকে নেয়া হয়েছে১১২১ * ১৪৫২ সাইছের ছবি

ক্লিক করলে বড় দেখা যাবে

আজকের সমকালে একটা দারুণ খবর দেখলাম। লিখেছে রকিব পারভেজ। মহাকাশের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে সূর্যগ্রহণ একটি বিশেষ ঘটনা। চাদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে। এর ফলে তৈরি হয় সূর্যগ্রহণ। মহাকাশের এইসব অন্যরকম ঘটনার প্রভাব মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম। ভাববাদীরা কল্পনাপ্রবণ হবেন এটাই স্বাভাবিক।

আগামী বৎসরের অর্থাৎ ২০০৯ সালের ২২ জুলাই তারিখে বাংলাদেশ থেকে একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এরকম প্রায়ই ঘটেনা। শেষ ঘটেছিল ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে মাসের ২৪ তারিখে। ১৪ বৎসর পর আর একটি সূর্যগ্রহণ হবার পরের ঘটনাটা অসাধারণ। তার কারণ পরবর্তী আর ১০০ বৎসরেও আর কোন পূর্ণ সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবেনা। এই জন্য পেশাদার আর শৌখিন সব ধরণের জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী ব্যাক্তিদের কাছে এই সূর্যগ্রহণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

২০০৯ সালের ২২ জুলাই ঘটতে যাওয়া ঘটনাটি অবশ্যই একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে ৮ টা পর্যন্ত চলবে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা থেকে পূর্ণ দেখা যাবে এবং বাকী সব জেলা থেকে আংশিক দেখা যাবে। উত্তরবঙ্গের সচেতন নাগরিকমাত্রই এই ঘটনা জেনে আনন্দ বোধ করবেন।

পত্রিকায় প্রদত্ত একটি জরুরী তথ্য: "পূর্ণ সূর্যগ্রহণ চলাকালীন খালি চোখে দেখা যাবে -বুধ, শুক্র, মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহ। আর এগুলো যে নক্ষত্রমণ্ডলীতে দেখা যাবে সেগুলো হচ্ছে- কর্কট, বৃষ এবং মকর। আবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এর সময় টেলিস্কোপে দেখা যাবে ইউরেনাস ও নেপচুন। আর এগুলো যে নক্ষত্রমণ্ডলীতে দেখা যাবে তা হলো- মিন, কুম্ভ, মকর এই দুটি নক্ষত্রমণ্ডলীর মাঝামাঝি।"

Read More ...