Showing posts with label ভিনগ্রহ. Show all posts
Showing posts with label ভিনগ্রহ. Show all posts

Monday, January 12, 2009

২০০৮ সালের সেরা ১০টি বৈজ্ঞানিক ঘটনা -০১

লার্জ হাড্রন কোলাইডার (Large Hadron Collider. LHC):
সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত এই যন্ত্রটি দিয়ে বিশ্ব সৃষ্টিকালীন সময়ের একটি মুহূর্ত তৈরি করা সম্ভব। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বসৃষ্টিকালীন সময়ের অনেক না জানা প্রশ্নে উত্তর পাওয়া যাবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে এই বিশালাকার মেশিনটি চালু করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় যন্ত্রটি সুন্দরভাবে কাজ করে। সামান্য কিছু ত্রুটির কারণে চালু করার ২ সপ্তাহ পর বন্ধ রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে ২০০৯ সালের জুন মাসের কোন এক সময়ে এই যন্ত্রটিকে আবারো পূর্ণ কার্যক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মঙ্গলের উত্তর মেরু:
ইতিপূর্বে মঙ্গল গ্রহের বিভিন্ন জায়গায় পৃথিবী থেকে পাঠানো যন্ত্র পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু এবারই প্রথম মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুতে একটি নিবিড় গবেষণা চালানো সম্ভব হয়েছে। নাসা'র বিজ্ঞানীরা জীবনের অন্যতম উপাদান জলের খোঁজ করার জন্য মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুকে সবচাইতে উপযুক্ত মনে করেছিলেন। ফিনিক্স নামক এই রোবটটি যদিও জীবনের পক্ষে তেমন কোন প্রমাণ পায়নি। কিন্তু এমন কিছু ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে, যার মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহে জীবনের স্পর্শ ছিল এমন ধারণা করা যেতে পারে। মঙ্গল গ্রহের উত্তর মেরুর বিরূপ আবহাওয়ায় ফিনিক্স বেশিদিন কর্মক্ষম থাকতে পারেনি। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে ফিনিক্সের কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়।

জীবনের সৃষ্টি:
যদি জেনেটিক দিক দিয়ে বিচার করা যায়, তাহলে বলতে হবে যে সব প্রাণীই আসলে একই সূত্রে গাঁথা। তা সে বিশালাকার হাতি হোক আর ক্ষুদ্রতর ব্যাকটেরিয়া হোক। ২০০৮ সালে জেনেটিক বিজ্ঞানী ক্রেইগ ভেনটার মানুষের জিনোমের সমস্ত ডিজাইনকে আঁকতে পেরেছেন। প্রাথমিকভাবে ৫৮২০০০টি মূল চিহ্নকে তিনি একত্রিত করেতে পেরেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি জেনেটিক কোডগুলোকে একত্রিত করে একটি ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি করতে চান। ভেনটর নিজেও এ কাজের সফলতা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান, কিন্তু একজন সফটওয়ার ডিজাইনারের উক্তিটি তার বেশ পছন্দের। "যখন তুমি কোড লেখার পদ্ধতিগুলো জানবে, তখন তুমি যেমন খুশি তেমন প্রোগ্রাম লিখতে পারবে"।

চীনের মহাকাশ জয়:

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে প্রথম মিশন পরিচালনা করে ১৯৬২ সালে। চীন মহাকাশে প্রথম মনুষ্যবাহী যান পাঠায় ২০০৩ সালে। দ্বিতীয়বার পাঠায় ২০০৫ সালে। আর তারা তৃতীয়বার মহাকাশ জয় করে ২০০৮ সালে। প্রথম প্রচেষ্টায় তারা একজন মানুষকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল। দ্বিতীয়বার পাঠায় দুইজনকে, আর তৃতীয়বার পাঠালো তিনজন মহাকাশযাত্রীকে। এ যাত্রায় চীনারা মহাকাশে পদাচারণা করে। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে মাত্র ৫ বছরের মাথায় এরকম বিশাল সাফল্য অর্জন করা কম কথা নয়। তারা আশা করছে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠাবে। ইতিমধ্যে তাদের স্থাপন করা কৃত্রিম উপগ্রহটি সফলতার সাথে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে।

ধারণার চাইতে বেশি গরিলা রয়েছে:
বিজ্ঞানীরা যা ভাবতেন, তার চাইতে দ্বিগুণেরও বেশি নিম্নভূমির গরিলা (Lowland Gorilla) কঙ্গোর জঙ্গলে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। Wildlife Conservation Society পরিচালিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ১২৫০০০টিরও বেশি গরিলা রিপাবলিক অব কঙ্গোর গহীন অরণ্যে চুপিসারে দিনানিপাত করছে।

সূত্র: টাইম
Read More ...

Sunday, April 13, 2008

সেলুলোজে প্রাণ

ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এখান থেকে

এতদিন পর্যন্ত মানুষের খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো জৈবিক পদার্থ ছিল এক ধরণের প্রোটিন। প্রায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ বৎসর আগের এই উপাদানটিকে সবচাইতে বয়স্ক প্রাণের উদাহরণ বলে মনে করা হত। এই প্রোটিন পাওয়া গিয়েছিল ভয়ংকর হিংস্র ডাইনোসর টাইরানোসরাক্স রেক্স ডাইনোসরের ফসিলে। কিন্তু এর চেয়েও পুরনো জৈবিক নমুনা পেয়েছেন নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সেললয়েজের এই সুক্ষ্ম আঁশগুলি ২৫৩ লক্ষ বছরেরও পুরনো। এগুলো পাওয়া গেছে। নিউ মেক্সিকো মরুভূমির এক প্রাচীন লবণ খনি থেকে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আণবিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত বর্জ্যপদার্থগুলো ফেলে দেয়া হয়। মাটির নীচে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে আণবিক বর্জ্যকে পুতে ফেলা হয়। প্রাগৈতিহাসিক এই সেলুলোজ Cyanobacteria দিয়ে তৈরি। এই নীলাভ সবুজ শৈবাল পৃথিবীর সাগর-স্থলের অনেক জায়গায় এখনও পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় এরা পৃথিবীতে ২.৮ বিলিয়ন বছর থেকে আছে।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদেরকে একটি ভিন্ন সম্ভাবনার আশা দিয়েছে। নাসার ওডেসি নামক মহাকাশ যান মঙ্গল গ্রহে প্রচুর লবনের সন্ধান দিয়েছে। এই আবিষ্কারকে মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা খুঁজে পাবার প্রত্যাশা বাতিল করে দিতে পারছেন না। সেলুলোজের আঁশগুলোর আবিষ্কারক ড. গ্রিফিথ বরেন - মঙ্গলগ্রহে প্রাণের প্রমাণ খুঁজতে হলে সেলুলোজের মধ্যে খুঁজতে হবে। ব্যাকটেরিয়া বা গাছপালা খুঁজে লাভ নেই। লবণের স্তুপের মধ্যে সেলুলোজ খুঁজতে হবে। তাহলে যদি প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেলেও যেতে পারে। ডিএনএ'র চাইতে সেলুলোজ অনেক বেশি টেকসই। বাহ্যিক বিভিন্ন অনুঘটক দ্বারা সহজে প্রভাবিত হয় না। রেডিয়েশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা ডিএনএ'র চাইতে অনেক বেশি। মহাকাশের বিরূপ আবহাওয়াতেও যদি এরকম দৃঢ়তা বজায় থাকে তাহলে সেলুলোজ এর মধ্যেই প্রাণের চিহ্ন পাওয়া যাবে।

গ্রিফিত এই লবণের নমুনা মাটির ২০০০ ফুট নিচ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তরল লবণ ও কেলাসিত লবণের কণাগুলো যখন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে তিনি পরীক্ষা করছিলেন তখন বিষয়টি ধরা পরে। তারা অনেক সেলুলোজের আঁশ অটুট অবস্থায় খুজে পান। সেলুলোজের আঁশগুলোর ব্যাস ৫ ন্যানোমিটার। অসংখ্য আঁশ পরস্পরকে জড়িয়ে জট পাকিয়ে আছে। কোন কোনটা দড়ির মত কোনটা আবার মাদুরের মত। গ্রিফিত বলেন- সময়ের দাগ সেলুলোজগুলো গ্রহণ করেনি। ঠিক টাটকা সেলুলোজের মতো ছিল সজীব। এটা দেখতে সেলুলোজের মত, আচরণও করছিল সেলুলোজের মত। বর্তমানকালের সেলুলোজের মত একই এনজাইম দিয়ে তৈরি। তিনি আরও বলেন -ওই লবণের মধ্যে আমরা কিছু ডিএনএ খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু পরিমাণে ছিল অনেক কম।

মহাকাশ গবেষণায় মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছে। মানুষ বহু আগে থেকে সৌরজগতের এই লাল গ্রহটিকে চিনতো। তার সম্পর্কে বিভিন্নরকম কৌতুহল এই আধুনিক যুগে এসেও মেটেনি। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী মঙ্গলগ্রহে পাওয়া লবণগুলো ৩.৫ থেকে ৩.৯ বিলিয়ন বছর আগের। স্বভাবগতভাবে লবণের খনি সবসময়ই জলের উপস্থিতির কথা বলে। সে হিসেবে যখন জল ছিল তখন সেখানে নিশ্চয় প্রাণের উপস্থিতিও ছিল। গ্রিফিনের মতে- সবচেয়ে প্রাচীন প্রাণ বলতে আসলে এক ধরণের গ্লুকোজকে (Polymerizing Glucose) বোঝানো হয়। জীবন তখনও কার্বন অবস্থায় ছিল। সেলুলোজের অন্তরালে ছিল তাদের আশ্রয়। ব্যাকটেরিয়া সেলুলজকে নিজেদের বাড়ির মত মনে করে। তার চারপাশ ঘিরে থাকে। গাছের কাঠামোর প্রধান উপাদান হল সেলুলোজ। কীটপতঙ্গ নিজেদের সেলুলোজের অবয়ব কিছুটা হলেও পাল্টাতে পারে। অর্থাৎ সেলুলোজ প্রাণের অন্যতম একটি উপাদান। আর তাই কোথাও তা সে মঙ্গলগ্রহ হোক আর মহাবিশ্বের যেকোন জায়গাতেই হোক না কেন গ্রিফিথ মনে করেন প্রাণ খুঁজতে হলে সেলুলোজের বুক উন্মোচন ছাড়া গত্যন্তর নেই।

Read More ...

Thursday, March 13, 2008

মঙ্গলে জল না অন্যকিছু?


ভিনগ্রহে প্রাণের খোঁজ পাওয়ার জন্য বিজ্ঞানীদের চেষ্টার শেষ নেই। যতরকমভাবে অন্য গ্রহে প্রাণের একটুমাত্র চিহ্ন খুঁজে পাওয়া সম্ভব তার সবই বিজ্ঞানীরা করে চলেছেন। সৌরজগতে পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী লাল গ্রহ মঙ্গল। পৃথিবীর মতই তার আকার। তাই প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

জীবনের জন্য জল অবশ্যম্ভাবী একটি বস্তু। এই জলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু পর্যন্ত বাঁচতে পারে। একথা পৃথিবীর মতো মঙ্গলের ক্ষেত্রেও সত্য। মঙ্গলে যদি কোনভাবে জলের একটুমাত্র চিহ্ন খুজে পাওয়া যায় তাহলে সেখানে প্রাণের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে।

বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় বিষয় হল মঙ্গলগ্রহে জলের উপস্থিতি। সৌরজগতের মধ্যে পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে বিজ্ঞানদের আগ্রহ অনেকদিনে। এই লাল গ্রহটিকে মানুষ অনেক আগে থেকেই চিনত। এই মঙ্গলগ্রহে একটি প্রাণ খুঁজে পাবার জন্য বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টার অন্ত নেই।

১৯৯৯ থেকেই এ ব্যাপারে জোর আলোচনা চলছে। বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহে প্রচুর পরিমাণ বরফে পরিণত হওয়া জলের সন্ধান দিয়েছেন। মঙ্গলগ্রহের দক্ষিণের পাথুরে অঞ্চলে একটি পাথরের শরীরের ঘষা দাগকে দূর অতীতে জলপ্রবাহের চিহ্ন বলে মনে করেন। এই আবিষ্কারটি নিয়ে ২০০৬ সালে হঠাৎ করে চারদিকে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন আলোচনায় বিজ্ঞানীরা একে জলপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট দাগ বলে মন্তব্য করেছেন।

নাসা কিছু ছবি প্রকাশ করেছিল যেগুলোতে জলপ্রবাহের চিহ্ন খুবই স্পষ্ট বলে বিজ্ঞানীরা মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এই বিস্ময়কর ঘটনাটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিদ্যার অধ্যাপক জন প্লেটিয়ার।

গতবছর সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে নাসা মঙ্গলের দক্ষিণের উচ্চভূমি কিছু ছবি প্রকাশ করেছিল। ছবিগুলো হাই রেজুলুশন ইমেজ সাইন্স এক্সপেরিমেন্ট (HiRISE) ক্যামেরায় তোলা। সম্প্রতি তোলা এই ছবিগুলো এবং পূবের্র ছবিগুলো ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা হয়েছে। এই ছবিগুলোতে পাথরের গায়ে সৃষ্টি হওয়া প্রবাহের ছাপ বেশ স্পষ্ট।

বিজ্ঞানী জন প্লেটিয়ার একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন _ আমরা কোন তত্ত্বকে ভুল প্রমাণিত করার জন্য শুরু করিনি। প্রথমদিকে আমিও ভেবেছিরাম এই দাগগুলো হয়ত সত্যিই কোন তরলের।

বিজ্ঞানীরা তৈরি করা সিমুলেশনটি বহুবার পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু কোনবারই তা তরল জলের প্রবাহের সাথে মেলেনি। কিন্তু শুকনো বা গুড়ো কোন কিছু যেমন বালি বা পাথরের টুকরো ইত্যাদির সাথে মিলে যায়।

তাহলে ঐ ঘষাটে দাগ কিসের? এ বিষয়ে আরিজোনার মহাকাশ বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যায়ের অধ্যাপক ম্যাকেইন বলেন_ আমরা শুকনা প্রবাহের তত্ত্বটি বাদ দেয়ার আশা করতে পারি কিন্তু তা সম্ভব নয়।

প্লেটিয়ার অবশ্য বলেন ১৬০০ ফিট লম্বা ও ৩৩০ ফিট উঁচু একটা ঘষে ছড়ে যাওয়ার দাগ বিষয়ে তরল প্রবাহের তত্ত্বকে আমার গবেষণা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করবেনা। এই দাগ হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারন হতে পারে কোনরকম ঘন কাদার প্রবাহ। এর মধ্যে ৫০-৬০ ভাগ অবশ্যই কোন দানাদার কিছুর মিশ্রণ ছিল, যেমন লাভা বা গুড়। প্লেটিয়ার (Pelletier) এর ভাষায় "The simplest explanationis that it is dry, granular flow," Pelletier said, "We think that the simpler explanation is probably the correct one."

Read More ...