Showing posts with label ভূবিদ্যা. Show all posts
Showing posts with label ভূবিদ্যা. Show all posts

Monday, November 17, 2008

প্রত্যেকটা গভীর শ্বাসের সাথে সাথে এভারেস্ট শৃঙ্গকে ধন্যবাদ দিন

যে পদ্ধতিতে কোন পাহাড়ের শৃঙ্গগুলো জেগে ওঠে সে পদ্ধতির কারণে শ্বাসভর্তি অক্সিজেন নেয়া সহজ হয়ে যায়। পাহাড়ে শৃঙ্গগুলো মাটি ফুঁড়ে ওপরে ওঠার সময় এমন সব পরিবর্তন ঘটায় যা পরিশেষে অক্সিজেন তৈরিকারী ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীবের পুষ্টি সাধন করে।

পৃথিবীর মহাদেশ তৈরি করতে গিয়ে বিশালাকার মহাদেশীয় প্লেটগুলো এ পর্যন্ত ৭ বার পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেয়েছে। বিপুল শক্তি নিয়ে একে অপরের সাথে ধাক্কা খাওয়ার ফলে মাটি উপরের দিকে উঠে গিয়েছে। সুউচ্চ পাহাড়গুলি তৈরি হয়েছে এভাবে। হিমালয় পর্বতমালার এভারেস্ট শৃঙ্গ তৈরি হয়েছে দুটি প্লেটের সংঘর্ষের ফলে। মহাদেশীয় সংঘর্ষের পরবর্তী কয়েক মিলিয়ন বৎসরব্যাপী বৃষ্টিপাতে উচ্চ শৃঙ্গগুলি ধুয়ে গেছে। পাহাড়ের শরীর বৃষ্টিতে ভিজে কাদা হয়েছে। ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নেমে সাগরে চলে গেছে। ধুয়ে যাওয়া মাটির সঙ্গে সাগরের জল মিশেছে আয়রণ, ফসফরাসসহ নানারকমের খনিজদ্রব্য। এই দ্রব্যগুলোকে সাগরতলের আনুবীক্ষণিক গাছগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। উদ্ভিদগুলোর শরীরে খনিজদ্রব্যগুলো হজম হওয়ার সময় তৈরি হয় প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন। বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধির পেছনে এই ফটোসিনথেসিস এর গুরুত্ব অপরিসীম। ২.৬৫ বিলিয়ন বৎসর আগে বায়ুমণ্ডলে ধর্তব্যের মধ্যে নয় এমন স্বল্প পরিমাণে অক্সিজেন ছিল। কিন্তু বর্তমানকাল পর্যন্ত তা বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ২১ ভাগ। ক্যানবেরাতে অবস্থিত অস্ট্রেলিয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (Australian National University) ভূবিজ্ঞানী আয়ান ক্যাম্পবেল এবং চার্লট অ্যালেন মনে করেন সাগরতলের ঠিক নিচের স্তরে যে পরিমাণ খনিজ দ্রব্য মজুত আছে তার প্রেক্ষিতে বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের পরিমাণ বোঝা যায়। বিভিন্ন মহাদেশীয় সংঘর্ষের সময় সাগরতলের খনিজদ্রব্য ও বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে তারা যথেষ্ঠ প্রমাণ হাতে পান।

তারা বলেন, যেকটি মহাদেশীয় সংযোজনকালীন ঘটনাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা গেছে, প্রত্যেক পুনর্গঠণ প্রক্রিয়ায় যথেষ্ঠ পরিমাণের অক্সিজেন বিমুক্ত হয়েছে। ক্যাম্পবেল আরও বলেন - ৪০ মিলিয়ন বৎসর আগে এশিয়া ভূখণ্ডের সাথে ভারতীয় ভূখণ্ড মিলিত হয়ে হিমালয় পর্বতমালা তৈরি করেছে। পরবর্তী বৎসরগুলোতে বর্তমান কাল পর্যন্ত এর ফলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়ে গেছে ১৫%।

কেউ কেউ মনে করেন, বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন সরবরাহ করার আরও একাধিক ভৌগলিক উপাদান আছে। এদের মধ্যে প্রধানতম হল আগ্নেয়গিরি। বলা হয় যে, ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনকে পৌঁছে দেয় আগ্নেয়গিরি। কিন্তু ক্যাম্পবেল মনে করেন এই ধারণা সঠিক নয়। আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অক্সিজেন মুক্ত হয়ে বাতাসে মিশে যাওয়ার কোন প্রমাণ নেই। এমন হলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ আরও বেশি হতো।

জার্মানির সরকারি গবেষণা সংস্থা GeoForschungsZentrum এর Geophysicist রেইনার কাইন্ড বলেন - টেকটোনিক প্লেটগুলো না থাকলে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব অনেক কম হতো। হয়তো সেখানে একেবারেই কোন অক্সিজেন থাকতো না। এই পৃথিবী তখন দেখতে মঙ্গলগ্রহের মত হতো। এর ফলে জীবনের বিকাশ খুব কঠিন হয়ে পড়তো। হয়তো জীবনের কোন সূচনাই হতো না।

তথ্যসূত্র
Read More ...

Thursday, August 7, 2008

সার্টসে দ্বীপ

সম্প্রতি কয়েকটা বিস্ময়কর প্রাকৃতিক স্থানকে ইউনেস্কো (Unesco) বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ (World Heritage) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এদের মধ্যে একটি হল আইসল্যান্ডের সার্টসে দ্বীপ (Surtsey island)। আইসল্যান্ডের (Iceland) দক্ষিণ উপকূলের ২০ মাইল (৩২ কি.মি) দূরে এই দ্বীপটি অবস্থিত। ১৯৩০ সালে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। এই দ্বীপে কিভাবে বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ তাদের বসতি তৈরি করছে তা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা ২০০৮ সালের জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেখানে দুটো গবেষণাগার স্থাপন করেছে।

১৯৬৪ সালে সমুদ্রের স্রোতে ভেসে সেখানে প্রথম বীজ পৌঁছায়। একই বৎসরে সেখানে বিভিন্ন ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া তাদের বংশবিস্তার শুরু করে। ইতিমধ্যে দ্বীপটি বিভিন্ন ধরণের গাছ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণি দিয়ে ছেয়ে গেছে।। এ পর্যন্ত ৮৯ প্রজাতির পাখি সেখানে বসতি গেছে। পাখির প্রজাতির সংখ্যা দ্বীপটিতে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: nationalgeographic.com
Read More ...

Friday, May 9, 2008

৯০০০ বৎসর পর

৯০০০ বৎসর ধরে ঘুমন্ত থাকার পর চিলির চাইটেন (Chaitén) আগ্নেয়গিরি আড়মোড়া ভেঙ্গেছে। গত ২ মে তারিখে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ সহযোগে চারপাশে লাভা, ছাই ও ধুলি ছিটিয়ে এই খবর সে নিজেই জানান দিয়েছে।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় ছাই, লাভাগুলো ১২ মাইল (১৯ কিলোমিটার) দূরে পর্যন্ত ছিটকে পড়েছে। চিলির সরকার আশেপাশের ৪০০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পেরেছে।

Read More ...